বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, শেরপুরে জামায়াতের এক নেতাকে প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারণার সময় নৃশংসভাবে হামলা করে হত্যার ঘটনা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। এই হত্যাকান্ড ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংঘটিত প্রথম বড় সহিংস ঘটনা বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অবিলম্বে খুনিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার করতে হবে।
তিনি শুক্রবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬-(বাঞ্ছারামপুর) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোঃ মহসীনের (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।
উপজেলার মাওলাগঞ্জ বাজার মাঠে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মোহাম্মদ আবুল বাশারের সভাপতিত্বে ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মোঃ শামীম নূর ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে দেশে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে, যা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনকে বাঁধাগ্রস্থ করবে। আসন্ন নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। যারা নির্বাচনকে অস্থিতিশীল করে তৃতীয় কোনো পক্ষকে সুবিধা দিতে চায়, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। কোনো দলের নেতা-কর্মীর উপর হামলার পুনরাবৃত্তি হলে তার দায় সরকার ও প্রশাসনকে নিতে হবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা এবং সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম বন্ধে ও নির্বাচনী প্রচারণায় নারী হয়রানি ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যাশা পূরণে নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানান তিনি।
নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চল টিম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আমির মাওলানা মোবারক হোসাইন, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক দেওয়ান মোঃ নকিব হুদা, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জকসুর এজিএস মাসুদ রানা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আমিনুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক জোনায়েদ হাসান, জেলা প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি মোঃ রোকন উদ্দিন, জেলা সমাজকল্যাণ সেক্রেটারি মাওলানা আবুল বাশার ভুইয়া, জেলা অফিস সেক্রেটারি মোঃ মনিরুজ্জামান, উপজেলা জামায়াত কর্মপরিষদ সদস্য মুফতি কামাল উদ্দিন ভূইয়া, উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা মাজেদুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি আলাউদ্দিন সাদী, উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির সমন্বয়ক মোঃ মাঈনুদ্দীন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস উপজেলা সভাপতি মুফতি আতাউর রহমান ফরদাবাদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫-(নবীনগর) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত ও ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত প্রার্থী মাওলানা আমজাদ হোসাইন আশরাফী। সমাবেশে জেলার বিভিন্ন আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়।সমাবেশে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে যোগ দেন।