বগুড়ার নন্দীগ্রামে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আরাকে তার নিজ কার্যালয়ে ঢুকে দুর্বৃত্তরা জিম্মি করেছে এমন এক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বৃহস্পতিবার দুপুরে। এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে থমথমে হয়ে ওঠে উপজেলা পরিষদ চত্বর। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে সেনাবাহিনীর ২৪ বীর নন্দীগ্রাম ক্যাম্পের চৌকস একটি টিম। এরপর চারিদিকে ঘিরে ফেলে কৌশলগত অবস্থান নেয় তারা। শুরু হয় সাইরেন বাজানো, দৌড়ঝাঁপ ও অস্ত্রধারী সেনাবাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা। পরে কমান্ডো কায়দায় অভিযান চালিয়ে দুর্বৃত্তদের আটক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আরাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। কিছুক্ষণ পর জানা যায়, পুরো ঘটনাটি বাস্তব নয়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনীর একটি পরিকল্পিত মহড়ার অংশ ছিলো এই দৃশ্য।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে পরিকল্পিত এই মহড়ার সময় উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। অনেকেই প্রথমে ঘটনাটিকে সত্যি ভেবে আতঙ্কিত হলেও পরে বিষয়টি জানার পর স্বস্তি ফিরে আসে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতা, সহিংসতা কিংবা জিম্মি পরিস্থিতির মতো গুরুতর ঘটনা মোকাবিলায় যৌথ বাহিনীর প্রস্তুতি যাচাই এবং আন্তঃবাহিনী সমন্বয় জোরদার করতেই এ মহড়ার আয়োজন করা হয়। মহড়ায় সেনাবাহিনীর ৪০ বীর নন্দীগ্রাম ক্যাম্পের চৌকস একটি টিম অংশ নেন। জিম্মি উদ্ধার, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে প্রবেশ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এসব সক্ষমতা যাচাই ছিলো মহড়ার মূল লক্ষ্য।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আরা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতেই এ ধরনের মহড়ার প্রয়োজন। এতে বাস্তব পরিস্থিতিতে কাজ করা আরও সহজ হবে।
আজকালের খবর/ এমকে