প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:০১ পিএম

কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলসহ নানা আয়োজনে দেশবন্ধু গ্রুপের চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট শিল্পপতি, দৈনিক আজকালের খবর পত্রিকার সম্পাদকমল্ডলীর সভাপতি গোলাম মোস্তফা এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম রহমানের বাবা মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সামাজ সেবক আলহাজ ডা. আব্দুল ওয়াসেক আহমেদের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী গতকাল বুধবার পালিত হয়েছে।
আলহাজ ডা. আব্দুল ওয়াসেক আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এদিন দেশবন্ধু গ্রুপের প্রধান কার্যালয় রাজধানীর বনানী মোস্তফা সেন্টারে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের অংশ নেন- দেশবন্ধু গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মরহুমের ছেলে বিশিষ্ট শিল্পপতি গোলাম রহমান, উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সারোয়ার জাহান তালুকদার, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জাকির হোসেন, দৈনিক আজকালের খবরের সম্পাদক ফারুক আহমেদ তালুকদারসহ গ্রুপের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
এদিকে রাজধানী ঢাকা ছাড়াও গতকাল কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সকাল ১০ টায় মরহুমের স্ত্রীর নামে প্রতিষ্ঠিত সাহেরা অটো রাইস মিল, পৈত্রিক বাড়ি বামনডাঙ্গা এবং নাগেশ^রী পৌরসভার বোয়ালেরডারার বাড়িতে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এছাড়া আলহাজ ডা. আব্দুল ওয়াসেক আহমেদের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল নরসিংদীতে দেশবন্ধু সুগার মিল, দেশবন্ধু পলিমার, দেশবন্ধু প্যাকেজিং, দেশবন্ধু বেভারেজ, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর দেশবন্ধু সিমেন্ট মিলসহ দেশবন্ধু গ্রুপের সকল প্রতিষ্ঠানে দিনভর কুরআন খানী, মিলাদ মাহফিল ও দোয়ার অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এসব অনুষ্ঠানে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এসব দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে দেশবন্ধু গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) গোলাম রহমানসহ তার পরিবারের লোকজন, আত্মীয়-স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও স্থানীয় আপমার জনতা অংশ গ্রহন করেন।

উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সামাজ সেবক আলহাজ ডা. আব্দুল ওয়াসেক আহমেদে ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক। তিনি ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী থানার বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, নাগেশ্বরী বণিক সমিতির উপদেষ্টা ও নাগেশ্বরী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এছাড়া দেশবন্ধু গ্রুপের প্রধান উপদেষ্টা, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের উপদেষ্টা, উপজেলা আওয়ামী লীগেরও উপদেষ্টা ছিলেন। বরেণ্য এই ব্যক্তি সাহিত্যাঙ্গনেও ছিল পদাচারণা। তার লিখিত অসংখ্য প্রবন্ধ বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে দেশে বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলীক পত্র পত্রিকায়। এছাড়া স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথা নিয়ে তার দুইটি বই এ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে সাহায্য করবে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি বুধবার সকাল পৌনে দশটায় ঢাকার বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে মরহুমের বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তিনি পাঁচ ছেলে ও তিন মেয়ে, নাতী-নাতনী এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
আজকালের খবর/বিএস