
বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক খাদ্যপণ্য প্রদর্শনী দুবাই গালফ ফুড ফেয়ার-২০২৬-এ অংশগ্রহণ করেছে দেশবন্ধু গ্রুপ। পাঁচ দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক মেলা গত সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও দুবাই এক্সিবিশন সেন্টারে শুরু হয়েছে। এবার নিয়ে সপ্তমবারের মতো মেলায় অংশ নিয়েছে দেশবন্ধু গ্রুপ। ইতোমধ্যে মেলায় ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, প্রতিবারের মতো এবারো দুবাইয়ের ‘গালফ ফুড’ মেলায় অংশ নিয়েছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ১৩০টি দেশের সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান। ৩১তম এই আসরে নিজেদের পণ্য প্রদর্শন করছেন ব্যবসায়ীরা। যেখানে বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তত্ত্বাবধানে অংশ নিয়েছে বেশকিছু খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান। খুচরা পণ্যের বেচাকেনা না থাকলেও মেলায় নিজেদের পণ্যের বিদেশি ভোক্তা ও চাহিদা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা।
গালফ ফুড ফেয়ারে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে দেশবন্ধু গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, গালফ ফুড ফেয়ার আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ক্রেতা, পরিবেশক ও আমদানিকারকদের কাছে দেশবন্ধু গ্রুপ ব্র্যান্ড পরিচিতি আরো জোরদার করে। পাশাপাশি নতুন ক্রেতা ও পরিবেশকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন এবং রপ্তানি আদেশ বৃদ্ধি করাই প্রধান লক্ষ্য। কর্মকর্তারা আরো বলেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী নতুন বাজার সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দেবে। একইসঙ্গে প্রতিযোগীদের পণ্য, প্যাকেজিং ও বাজারপ্রবণতা বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি হয় এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্যের মান, স্বাদ ও প্যাকেজিং বিষয়ে সরাসরি ফিডব্যাক পাওয়া যায়; যা ভবিষ্যৎ পণ্য উন্নয়ন ও ব্যবসা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে দেশবন্ধু ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের উৎপাদিত ম্যাংগো জুস প্রতি মাসে আমেরিকাসহ আরো কয়েকটি দেশে নিয়মিত রপ্তানি হচ্ছে। দেশবন্ধু গ্রুপ বাংলাদেশের একটি স্বনামধন্য ও শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান; যার অধীনে রয়েছে সুগার মিলস্, সিমেন্ট মিলস্, রাইস মিলস্, টেক্সটাইল মিলস্, পলিমার, প্যাকেজিং, ফুড ও বেভারেজ, কনজ্যুমার ও এগ্রো প্রোডাক্টসসহ মোট ৩৫টি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান।
দেশবন্ধু গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত দেশবন্ধু সুগার মিলস্ লিমিটেড, দেশবন্ধু সিমেন্ট মিলস্ লিমিটেড, দেশবন্ধু ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড এবং দেশবন্ধু কনজ্যুমার অ্যান্ড এগ্রো প্রোডাক্টস লিমিটেড বিগত কয়েক দশক ধরে দেশের বাজারে চিনি, সিমেন্ট, কোমল পানীয় ও ভোগ্যপণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ করে আসছে।
প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি সয়াবিন তেল, সরিষার তেল, চাল, মসুর ডাল, বুটের ডাল, মটর ভাজা, ইসবগুলের ভুসি, টেস্টিং সল্ট, আটা, ময়দা, সুজি ইত্যাদি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বাজারজাত করার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
২০১৭ সাল থেকে দেশবন্ধু ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড ম্যাংগো ড্রিংক, লিচি ড্রিংক, পাইনআপেল ড্রিংক, এনার্জি ড্রিংক এবং অন্যান্য সিএসডি পণ্যসহ বিভিন্ন কনজ্যুমার পণ্য বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি করে আসছে; যার মধ্যে রয়েছে ভারত, সৌদি আরব, দুবাই, কাতার, বাহারাইন, গ্রিস, যুক্তরাজ্য, রিইউনিয়ন আইল্যান্ড, সোমালিয়া, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, আফিয়া সামুয়া, আমেরিকান সামোয়া ও আরো অনেক দেশ। প্রতিষ্ঠানটি নতুন নতুন দেশে রপ্তানি সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশের পণ্যের গুণগত মান ও সক্ষমতাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরছে। উক্ত রপ্তানি কার্যক্রম সম্মুখ সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশবন্ধু ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) ইদ্রিসুর রহমান।
বাজার সম্প্রসারণ, পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রেতা সমন্বয় ইত্যাদি কার্যক্রম তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করে আসছেন। ইদ্রিসুর রহমান বলেন, আমরা বর্তমানে প্রায় ৪০টিরও বেশি দেশে দেশবন্ধু পণ্য রপ্তানি করছি। আমাদের রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছি। ইনশাআল্লাহ ২০২৬ সালের মধ্যে আমরা আরো প্রায় ১০০টি দেশে আমাদের পণ্য রপ্তানি করবো বলে আশা প্রকাশ করছি।
দেশবন্ধু গ্রুপের রপ্তানি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা বিভিন্ন দেশে নিজস্ব সেলসম্যান নিয়োগ দিয়েছি। এর পাশাপাশি আমরা আমদানিকারককে বিভিন্ন ধরনের ব্র্যান্ডিং যেমনÑ পোস্টার, স্টিকার, লিফলেট, ক্যালেন্ডার, টি-শার্ট, ব্যাগ দিয়ে আমরা প্রমোশন করছি।
উল্লেখ্য, বিশ্বের খাদ্য ও বেভারেজ খাতের অন্যতম বড় আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম গালফ ফুড ফেয়ারে এ বছর ১৯৫টি দেশের সাড়ে ৮ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করছে। আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই মেলা গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়। আমদানি ও রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি এই মেলার মাধ্যমে অন্যান্য দেশের খাদ্যপণ্য সম্পর্কে জানার বড় একটি সুযোগ রয়েছে; যা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের খাদ্যপণ্যের বাজার বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত করা আরো সহজ হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
আজকালের খবর/বিএস