অভাব-অনটনের সংসার। রিকশা চালিয়ে কোনোরকমে পরিবার চালাতেন শাহ আলম। দুঃখ-সুখের মাঝেই স্বপ্ন দেখতেন আদরের মেয়ে সিরাতুল জান্নাতকে মানুষ করার। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই স্বপ্নে নেমে আসে অন্ধকার বিরল রোগ ক্যারোলী সিনড্রোম। তবে টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেনা তার পরিবার। এবার সেই শিশুটির পাশে দাঁড়িয়েছেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে শিশুটির পরিবারের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন তিনি। এ সময় সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘টাকার অভাবে শিশু জান্নাতের চিকিৎসা বন্ধ, সহায়তার আকুতি পরিবারের’ শিরোনামে জাতীয় দৈনিক আজকালের খবর ও দৈনিক দাবানল পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।
শিশু সিরাতুল জান্নাত নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের সিঙ্গেরগাড়ী পীরপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র পরিবার শাহ আলম ও সুলতানা রাজিয়া দম্পতির ৮ বছর বয়সী মেয়ে । সে স্থানীয় সিঙ্গেরগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী।
জানা যায়, এক বছর আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন বাবা-মা। পরীক্ষার পর প্রথমে লিভার সিরোসিস ধরা পড়ে। টাকার অভাবে চিকিৎসা নিয়মিত চালানো সম্ভব হয়নি। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানান, সিরাত বিরল রোগ ‘ক্যারোলী সিনড্রোম’-এ আক্রান্ত। চিকিৎসকদের মতে, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতে নিতে হবে, যেখানে ব্যয় হতে পারে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা
সিরাতুল জান্নাতের মা সুলতানা রাজিয়া বলেন, আমরা খুব গরিব, অভাবে দিন পার করি। তবে আমার মেয়ে অসুস্থ হওয়ার পর বাড়ির জমিসহ সবকিছু বিক্রি করেছি। তাকে চিকিৎসা করাতে এখন আমার কোন উপায় নাই। সমাজের বিভিন্ন মানুষ আমাকে সহায়তা করছে আজকে ইউএনও স্যার সহায়তা করেছেন। আল্লাহ স্যারকে দীর্ঘদিন বেঁচে রাখবে দোয়া করি।
সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, শিশুটি দীর্ঘদিন ধরে বিরল রোগে আক্রান্ত। তাকে আমরা সহায়তা করার চেষ্টা করছি। আজকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও সহায়তা করেছেন। এরআগে স্থানীয় সেচ্ছাসেবী সংগঠন সেবা ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ সহায়তা দিয়েছে। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে শিশুটিকে বাঁচানো যাবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া বলেন, শিশুটিকে বাঁচাতে সবার এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই। আজকে সরকারি ভাবে এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে তাকে সহায়তা প্রদান করেছি। আগামীতে শিশুটির জন্য কি করা যায় সেটির চেষ্টা করব।
আজকালের খবর/বিএস