জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে কুমিল্লার স্বাভাবিক জনজীবন ও যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ডিপো থেকে অপ্রতুল সরবরাহের কারণে জেলার ৮১টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে ৪৯টি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও মালিকরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন কার্যক্রম গুটিয়ে বসে আছে। কোথাও এক সপ্তাহ, কোথাও কয়েকদিন ধরে জ্বালানি সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ। ফলে প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পেয়ে অনেক যানবাহন মাঝপথে বন্ধ হয়ে পড়ছে।
ফিলিং স্টেশন মালিকরা জানান, পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপো থেকে চাহিদার মাত্র ৫ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। যেখানে একটি স্টেশনের দৈনিক চাহিদা ৩০ থেকে ৪০ হাজার লিটার, সেখানে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে মাত্র ১ হাজার লিটার। এ পরিমাণ জ্বালানি এনে পরিবহন খরচই উঠছে না, উল্টো লোকসান গুনতে হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়েই অনেক মালিক স্টেশন বন্ধ রেখেছেন।
তাদের মতে, একটি তেলবাহী ট্যাংকার পূর্ণ করতে প্রয়োজন হয় ১৫ থেকে ১৭ হাজার লিটার জ্বালানি। সেখানে মাত্র ১ হাজার লিটারের জন্য ট্যাংকার পাঠানো অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক। এ কারণে অনেক স্টেশন মালিক সরবরাহ বন্ধ রেখে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
এদিকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি না মিললেও খোলাবাজারে অতিরিক্ত দামে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, প্রতি লিটারে প্রায় ৫০ টাকা বেশি দামে বোতলে করে এসব জ্বালানি বিক্রি করছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। এতে সংকটকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে কালোবাজারি চক্র।
জ্বালানি সংকটের কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল কমে গেছে। অনেক মোটরসাইকেলচালক রাস্তায় জ্বালানি শেষ হয়ে পড়ায় দীর্ঘ পথ ঠেলে যানবাহন নিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান জানান, জ্বালানি নিয়ে কোনো ধরনের কারচুপি বা অনিয়ম ঠেকাতে কঠোর নজরদারি চলছে। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি হওয়ায় সাময়িক এই সংকট তৈরি হয়েছে, তবে দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আজকালের খবর/ এমকে