ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক আলোচনা চূড়ান্ত সমাধান ছাড়াই শেষ হলেও পুরো প্রক্রিয়ায় কূটনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে পাকিস্তান। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রেখে দেশটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের নতুনভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে।মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা এলিয়ট অ্যাব্রামস বলেন, ‘তারা কূটনৈতিকভাবে নিজেদের মানচিত্রে স্থান করে নিয়েছে। আমি মনে করি তারা আগামীতেও বার্তা বহন করতে থাকবে এবং অনেক সুনাম অর্জন করেছে।’
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক এবং তুলনামূলক নিরপেক্ষ অবস্থান তাদের এই ভূমিকায় এগিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেরাই সংঘাতে জড়িত থাকায় মধ্যস্থতার সুযোগ সীমিত ছিল।
ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করাও পাকিস্তানের এই অবস্থান তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্টিমসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়া কার্যক্রমের পরিচালক এলিজাবেথ থ্রেলকেল্ড বলেছেন, ‘ওয়াশিংটনের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক এবং নেতাদের মধ্যে ব্যক্তিগত আস্থা না থাকলে পাকিস্তান এই আলোচনার আয়োজন করতে পারত না।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে পাকিস্তান একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে আফগানিস্তানে ১৩ জন মার্কিন সেনাকে হত্যার সঙ্গে জড়িত একজন কাঙ্ক্ষিত আইএস সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করতে সাহায্য করেছে। ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছে। বাণিজ্য চুক্তি করেছে। ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দিয়েছে। এমনকি পাকিস্তানের ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ন্ত্রক সংস্থা ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে।
থ্রেলকেল্ড বলেছেন, ‘আমি মনে করি না এটা কোনো একটি কৌশলের ফল। বরং এটা হলো দীর্ঘ একটি তালিকা, যেখানে পাকিস্তান ট্রাম্প প্রশাসনের মনোভাব বুঝে সে অনুযায়ী কাজ করেছে।’
ইসলামাবাদে বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে ধন্যবাদ জানিয়ে লেখেন, ‘তারা অসাধারণ মানুষ।’। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও পাকিস্তানের আতিথেয়তার প্রশংসা করে বলেন, মুনির ও শরিফ ‘অবিশ্বাস্য আতিথেয়তা’ দেখিয়েছেন এবং যোগ করেন, ‘আলোচনায় যা কমতি ছিল তা পাকিস্তানিদের কারণে নয়।’
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এই সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তবে ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করা পাকিস্তানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকতে পারে। অবসরপ্রাপ্ত নৌ রিয়ার অ্যাডমিরাল মার্ক মন্টগোমারি বলেছেন, ইসরাইলের ক্ষেত্রে যেভাবে চাপ দেওয়া সম্ভব হয়েছে, পাকিস্তানের পক্ষে সেভাবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান আনার ক্ষমতা নাও থাকতে পারে।
তবে একজন আরব কূটনীতিক বলেছেন, ‘আমেরিকা যেভাবে পাকিস্তানকে ধন্যবাদ দিয়েছে এবং বিশ্বাসযোগ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তাতে ভবিষ্যতে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।’
আজকালের খবর/ এমকে