সিলেট নগরীতে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। দিনের আলোয়, জনবহুল সড়কে, অস্ত্র উঁচিয়ে সাধারণ মানুষের টাকা-পয়সা ও মালামাল লুট করে নিচ্ছে দুর্বৃত্তরা। শিক্ষার্থী, কর্মজীবী নারী থেকে শুরু করে গর্ভবতী মহিলা পর্যন্ত কেউ রেহাই পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে ক্ষোভে ফুঁসছেন নগরবাসী।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ভোর ৮টার দিকে সাগরদিঘীর পাড় ৩ নং রোডে একজন শিক্ষার্থী কলেজের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। এ সময় পালসার মোটরসাইকেলে আসা দুই ছিনতাইকারী তাকে ঘিরে ধরে। তবে ছিনতাই করতে সক্ষম হয়নি। চেষ্টা চালালেও ছিনতাই করতে না পেরে পালিয়ে যায়।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টার দিকে হাউজিং এস্টেট রোডে ৩টি মোটরসাইকেলে হেলমেট পরা ৬ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী দল একটি সিএনজি অটোরিকশার গতিরোধ করে। তারা অস্ত্র দেখিয়ে এক নারী যাত্রীর ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।
এর আগে গত ১২ জানুয়ারি সকালে হাউজিং এস্টেটের ৮ নম্বর লেনে পশ্চিম পীর মহল্লার বাসিন্দা এক অন্তঃসত্ত্বা নার্স কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে ছিনতাইয়ের শিকার হন। রিকশা থামিয়ে দুর্বৃত্তরা তার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ব্যাগে ছিল একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, নগদ ৮ হাজার ৭০০ টাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র।
নগরীর বাসিন্দা সাব্বির হোসেন বলেন, আমরা এখন নিরাপদে নেই। প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। কখন কোথা থেকে ছিনতাইকারী এসে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করবে—এই ভয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন প্রকাশ্যে ছিনতাই হচ্ছে। আমাদের প্রশ্ন—প্রশাসন কী করছে? আমরা কবে নিরাপদ হব?
তানিয়া আক্তার নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, সিলেটের এমন পরিস্থিতি আগে কখনো কল্পনাও করিনি। মেয়েরা এখন বাসা থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছে। কখন অস্ত্র দেখিয়ে ছিনতাই করা হয়, সেই আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে।
তিনি প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করে বলেন, সিলেটে প্রকাশ্যে ছিনতাই হচ্ছে। প্রশাসন কি এ ব্যাপারে শক্ত অবস্থান নিতে পারে না?
এদিকে নগরবাসী দ্রুত ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নগরীতে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেছেন, ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করার জন্য পুলিশ কাজ করছে। ইতোমধ্যে ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সাগরদিঘীর পাড় এলাকায় ছিনতাইয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, সেখানে ছিনতাই সংঘটিত হয়নি, তবে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছিল। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
কাওছার আল হাবীব/আজকালের খবর