কুমিল্লার মুরাদনগরে ফসলি জমি রক্ষা ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ৪টি অবৈধ ড্রেজার মেশিন ধ্বংস ও প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ফুট পাইপলাইন অপসারণ করা হয়েছে। একই সাথে বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুর রহমানের নির্দেশনায় গত বুধবার (৪ মার্চ) দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাছান খাঁনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে আকুবপুর ইউনিয়নের পীর কাশিমপুর এলাকা থেকে ২টি অবৈধ ড্রেজার ও প্রায় ২০০০ ফুট পাইপলাইন অপসারণ করা হয়। এ সময় বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ (সংশোধিত ২০২৩) অনুযায়ী কাইয়ুম নামের এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
একই দিনে শ্রীকাইল ইউনিয়নের পাহাড়পুর ও কালারাইয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ২টি ড্রেজার এবং প্রায় ১৫০০ ফুট পাইপ ধ্বংস করে অবৈধ সেচ কার্যক্রম ও বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেওয়া হয়।
অভিযান পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাছান খাঁন বলেন, রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ৮১ ধারা অনুযায়ী কোনো রায়তি বা ভূমি মালিক ভূ-নিম্নস্থ সম্পদের ওপর অধিকার দাবি করতে পারেন না। তিনি আরও বলেন, “অবৈধ ড্রেজারের কারণে ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়ছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। কৃষি জমি রক্ষায় আমাদের এই জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।”
প্রশাসনের এই দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। মুরাদনগরের সাধারণ মানুষ প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মাটিকাটা বা অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত যে কোনো সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
কাওছার আল হাবীব/আজকালের খবর