বরগুনার বামনা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা সাবেক অধ্যক্ষ সৈয়দ মানজুরুর রব মুর্তাযা আহসান মামুনের পুত্র সৈয়দ নাহিয়ান আহসান রাহবারের বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলন করেন ব্যবসায়ীরা যা দুটি প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশ হয়।
গত সোমবার (২ মার্চ) বামনা প্রেসক্লাবে তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন কয়েকজন ব্যবসায়ী।
এসব অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে বুধবার (৪ মার্চ)সকালে সৈয়দ নাহিয়ান আহসান রাহবার নিজ বাড়িতে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ৫ আগষ্টের পর বামনা সদরে ফুটপাত দখলের রাখা ব্যবসায়ীদের নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বাজার কমিটি বৈঠক ডাকে এবং আমিও কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপস্থিত ছিলাম। ‘ফুটপাত দখল করা যাবে না’ এই সিদ্ধান্ত হলে বামনা বাজারে অবস্থিত (পুরাতন বকরস্থান) নামক স্থানে ফাঁকা জায়গাটি ব্যবসায়ীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত স্থানে ব্যবসায়ীদের বসার জন্য উপযুক্ত করতে বালু ভরাট ও সেট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। বালু ভরাট ও সেট নির্মাণের জন্য ব্যবসায়ীদের নিকট হইতে ১৩ হাজার টাকা করে পূর্বে বাজার কমিটির সদস্য মো. আবু সালেহর কাছে জমা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ শুরু হয়। মোট ৩০ জন ব্যবসায়ীর মধ্য হতে সেখানে ২৯ জন ব্যবসায়ী ৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা জমা দেয়া হয়।
ঐ টাকা তৎকালীন বাজার কমিটির সভাপতি আবুল হোসেন সিকদারের কাছে আবার বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তখন ছাত্রদের মধ্যে হতে আমাকে ইস্টিমিট অনুযায়ী করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। আমি কাজ সম্পন্ন করে সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল ইমরান স্যারকে বুঝিয়ে দেই, তিনি ব্যবসায়ীদের ৪ফুট বাই ৮ ফুট নির্মিত দোকান ঘর বুঝিয়ে দেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, নির্মাণ কাজে মোট ব্যয় হয়েছে ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৯ শত টাকা। অন্য এক ব্যবসায়ী তার ভাগের ১৩ হাজার টাকা জমা অদ্যবধি দেয়নি। আল ইমরান স্যার বদলি হলে কিছু দিনপরে কয়েক জন ব্যাক্তি নবাগত নির্বাহী অফিসার মোসাঃ নিকহাত মহোদয়ের কাছে ব্যবসায়ীদের বরাদ্দ কৃত দোকান ঘরের পুঃনরায় হিসেব বুঝিয়ে দেয়ার জন্য তাগীদ দিলে তিনি আমাকে এবং অফিসার ইনচার্জ মোঃ হারুন অর রশিদ হাওলাদার, বরাদ্দ পাওয়া ব্যবসায়িদের এবং বর্তমান বাজার কমিটির সভাপতি, সম্পাদকে ডেকে আলোচনায় আমার কাগজ পত্র দেখে ধন্যবাদ জানিয়ে বর্তমান বাজার কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকে বাকী সকল কাজ সম্পন্য করার দ্বায়ীত্ব দেয়া হয় ঐ ব্যবসায়িদের বক্তব্য অনুয়ায়ী নিজ খরচে ইটের দেয়াল ও ফ্লর করে নিতে বলেন এবং দোকান ঘরগুলো ভেঙ্গে দুটি টল সেট ও দোকান ঘরে সামনে দিয়া পাকা রাস্তা তৈরী , ৩০ টি ঘর থেকে বড় করে ২০ টি ঘর করার জন্য বরাদ্দ দেয়ার কথা বলে একটি রেজুলেশন করে হয়েছে।
হঠাৎ করে ঐ সকল ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিছু ব্যবসায়ীরা একত্র হয়ে ২ মার্চ বামনা প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন ‘আমি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছি’। বিষয়টি অত্যান্ত হাস্যকর। শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে এমন ঘটনা ঘটানো হচ্ছে বলেও দাবী করেন। তিনি বলেন, এতে করে আমার ও আমার পরিবারের মান-সম্মান ক্ষুন্ন করা হচ্ছে। ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৯ শত টাকার কাজে কত টাকা আত্মসাৎ করা যায় বলে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তিনি আরও বলেন, শুরু থেকে দোকান ঘরগুলোর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ্য নিয়ে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ছিল। এছাড়া অন্য কোন অভিযোগ কোনদিন শুনি নাই।
গত সোমবার (২ মার্চ) সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেয়া ব্যবসায়ী শিবু চন্দ্র দাসের পুত্র জয় চন্দ্র দাস বলেন, কয়েকজন ব্যবসায়ী আমাকে বামনা প্রেসক্লাবে নিয়ে একটি কাগজ হাতে ধরিয়ে দিয়ে পড়তে বলেন। আমি বিষয়টি অবগত ছিলাম না। অন্যান্য ব্যবসায়ী পড়তে পারেন না বিধায় আমাকে পড়তে বললে আমি অভিযোগটি পড়ি। তিনি আরও বলেন, আমরা একটি দোকানের জন্য ১৩ হাজার টাকা ইউএনও অফিসে জমা দিয়েছি এবং একটি দোকান বুঝে পেয়েছি। কারা পায়নি কিংবা লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।
এসব বিষয়ে বামনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাঃ নিকহাত আরা এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটি অভিযোগ উঠেছে। আমরা এ নিয়ে তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।