গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের লাগামহীন তৎপরতায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসা সেবার পরিবেশের চেয়ে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড সেখানে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।
বিশেষ করে আলহেরা হাসপাতাল, আলহেরা মেডিকেল সেন্টার, লাইফ কেয়ার হাসপাতাল, নোভা হাসপাতাল, মাদারস কেয়ারসহ উপজেলার প্রায় সব বেসরকারি হাসপাতালে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা চিকিৎসকদের কক্ষের সামনে ভিড় করেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা বিভিন্ন আকর্ষণীয় অফার ও সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে নির্দিষ্ট কোম্পানির ওষুধ লেখানোর চেষ্টা করেন।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময়ও হয়রানি থেমে থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে প্রেসক্রিপশন নিয়ে টানাটানি করা হয় এবং প্রেসক্রিপশনের ছবি তোলার চেষ্টা করা হয়। এতে রোগীরা চরম বিব্রত ও মানসিক অস্বস্তিতে পড়ছেন।
রোগীর স্বজনরা বলেন, “ডাক্তার দেখিয়ে বের হতেই কয়েকজন প্রেসক্রিপশন ধরতে চায়। মনে হয় হাসপাতালে না, কোনো বাজারে এসেছি।”
গর্ভবতী রোগী রোজিনা বেগম (২৬) বলেন,“দীর্ঘ সময় বসে থাকা আমার জন্য অনেক কষ্টের। সিরিয়ালে বসে রোগী দেখাচ্ছি, কিন্তু বারবার মনে হচ্ছে ওষুধ কোম্পানির লোকজন আমাদের আগেই ভেতরে ঢুকছে। এতে আমার ভোগান্তি আরও বেড়ে যাচ্ছে।”
শিশুর মা মোসা. সালমা খাতুন (৩০) বলেন, “ছোট বাচ্চাকে নিয়ে হাসপাতালে আসা এমনিতেই কষ্টের। কিন্তু ডাক্তার দেখানোর পর বের হওয়ার সময় প্রেসক্রিপশন নিয়ে টানাটানি আর ছবি তোলার চেষ্টা করায় খুব অস্বস্তি লাগে।”
বয়স্ক মেডিসিন বিভাগের রোগী আব্দুল কাদের (৬৫) বলেন, “ডাক্তারের সামনে দাঁড়িয়ে ওষুধ কোম্পানির লোকজন বলে, ‘স্যার, আমাদের এই ওষুধটা বাত রোগে খুব কাজ করে, লিখে দিতে পারেন।’ রোগীর সামনে এভাবে কথা বলা একদমই ঠিক না।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক চিকিৎসক বলেন, “সব ডাক্তারই এসব অফারে সাড়া দেন এমন নয়। তবে কিছু প্রতিনিধি নিয়ম না মেনে চাপ সৃষ্টি করেন, যা চিকিৎসা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এ বিষয়ে স্পষ্ট নীতিমালা দরকার।”
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা প্রাইভেট হাসপাতাল মালিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, “ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের বিষয়টি আমরা লক্ষ্য করেছি। রোগীদের ভোগান্তি কমাতে নির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারণের পরিকল্পনা করছি, যাতে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত না হয় এবং রোগীরা বিরক্ত না হন।”
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, সরকারি হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচি রয়েছে।
শুধুমাত্র সোমবার ও বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার পর তাদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। এর বাইরে কোনো সময় প্রবেশের অনুমতি নেই। তিনি আরও বলেন, “প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কাওছার আল হাবীব/আজকালের খবর