প্রকাশ: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৪:১৫ পিএম (ভিজিট : )

সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। তিনি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র (১) ও বর্তমানে সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সংগঠনের প্রতি নিষ্ঠা ও ত্যাগের জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে তিনি এক আস্থার নাম হিসেবে বিবেচিত।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত সরকারের আমলে আন্দোলন-সংগ্রামের কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তার, হামলা ও মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় মামলা দায়ের করা হয় এবং তাকে কারাবরণ করতে হয়। তবুও দলীয় আদর্শ ও নীতির প্রশ্নে আপস করেননি তিনি।
বিশেষ করে গত প্রায় ১৭ বছরের শাসনামলে তাকে দীর্ঘ সময় ঘরছাড়া অবস্থায় থাকতে হয়েছে বলে নেতাকর্মীরা জানান। পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে রাজনৈতিক কর্মসূচি সমন্বয়, নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেওয়া এবং দলীয় কার্যক্রম সচল রাখার দায়িত্ব পালন করেছেন। অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তাহীনতা এবং আর্থিক সংকটের মধ্যেও তিনি আন্দোলনের ময়দান ছাড়েননি- এমনটাই দাবি তার ঘনিষ্ঠদের।
স্থানীয় বিএনপির নেতারা বলেন, কয়েস লোদী সব সময় মাঠের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। দুঃসময়ে তিনি নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। হামলা-মামলার ভয়ে কখনও পিছিয়ে যাননি। তাদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও ধৈর্য দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই নগরীর বন্দরবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। পরবর্তী ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা পালিয়ে দেশ ছাড়ার পর তিনি কারামুক্ত হন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিলেট মহানগর রাজনীতিতে কয়েস লোদীর অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। সাবেক প্যানেল মেয়র হিসেবে সিটি কর্পোরেশনে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা তাকে নগর রাজনীতিতে প্রভাবশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে তার ওপর সাংগঠনিক পুনর্গঠন, নেতাকর্মীদের সক্রিয়করণ এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচি বাস্তবায়নের বড় দায়িত্ব রয়েছে।
এদিকে বিএনপির স্থানীয় নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রতিকূলতা কাটিয়ে তিনি আগামীতেও আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেবেন এবং নগর রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
সব মিলিয়ে জেল-জুলুম, হামলা-মামলা ও দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূলতা পেরিয়ে রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর বর্তমান অবস্থান তার রাজনৈতিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আজকালের খবর/বিএস