
সেনাপ্রধান ও অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, আমরা বহু বছর ধরে অলিম্পিক কমপ্লেক্সের স্বপ্ন দেখছি। অনেক স্থানে আমরা জায়গা দেখিছি এবং যে কোনো কারণেই তা বাস্তবায়ন হয়নি। তারপর আর্মি ট্রেনিং স্কুলের পাশে এটি করার চিন্তা করি এতে স্পোর্টসেরও ভালো হবে এবং তদারকিও করা যাবে। এবং জাতীয় পর্যায়ে ক্রীড়াতে আমরা বড় এটি অবদান রাখতে পারবো৷
ময়মনসিংহের ত্রিশালে দেশের প্রথম অলিম্পিক কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সেনা প্রধান।
রোববার (০১ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রায় ১৭৩ একর জমিতে অলিম্পিক কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান বলেন, জাতীয় পর্যায়ের যত প্রতিযোগিতা আছে সব এখানে করবো, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা এখানে করবো। সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের জয়েন্ট এগ্রিমেন্ট হয়ে যাবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ইভেন্টগুলো অগ্রাধিকার পাবে। অন্য সময়ে সেনাবাহিনীর, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও দেশীয় কোনো ক্রীড়াবিদ প্র্যাক্টিস করতে চাইলে তা পারবে। স্বপ্ন অনেক, কিন্তু প্রচুর অর্থ প্রয়োজন। যেভাবেই হোক টাকা যোগাড় করতে হবে। আমরা সূচনা করেছি। যতো তাড়াতাড়ি অর্থ পাওয়া যাবে তত দ্রুত বাস্তবায়ন হবে। আমরা একটি আর্কিটেক্ট ফার্ম নিয়োগ দিয়েছি এবং বাইরের আর্কিটেক্টও আসছেন। আমরা মধ্যপ্রাচ্যের গলফ কান্ট্রি গুলো থেকে হ্যান্ডসাম ডোনেশন প্রত্যাশা করছি। এর জন্য যা করা দরকার তা করা হবে। আমরা আশা করছি এটি যথা শীঘ্র বাস্তবায়ন করতে পারবো। এটি জাতীয় পর্যায়ে বিশাল বড় একটি কাজ হবে। আমাদের তরুণ প্রজন্মকে বেশিকরে খেলাধুলার সাথে সম্পৃক্ত করতে চাচ্ছি৷ চরিত্র গঠনে বিশাল একটি কাজ হবে বলে বিশ্বাস করি। আমি কোনো স্পোর্টস ম্যানকে কখনও খারাপ কাজে জড়িত হতে দেখিনি। খেলাধুলার এটাই হচ্ছে মাহাত্ম্য। স্পোর্টস ম্যান গাঁজা খাচ্ছে খারাপ কাজ করছে এটি কখনও দেখিনি। এ জন্য আমি মনে করি,দেশের তরুণ প্রজন্মের চরিত্র গঠনে খেলাধুলা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
সেনা প্রধান বলেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আমি প্রচুর আগ্রহ দেখেছি। সমস্যা হচ্ছে শুধু আমাদের ফ্যাসিলিটি নাই। কিন্তু এখানে সুন্দর পরিবেশের সৃষ্টি হবে প্র্যাক্টিস করার সুযোগ থাকবে। এখানে বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে। ঢাকা থেকে সাটল ট্রেন চালু করা গেলে যাতায়াত সহজ হবে। আমরা স্বপ্ন দেখেছি, স্বপ্ন দেখানোর চেষ্টা করছি। কাজ শুরু হয়ে গেছে, শেষ হবে এক সময় না এক সময়। আমি মনে করি দেশ ও জাতীর জন্য বড় কাজ হবে। এটি আন্তর্জাতিক ভ্যানুতে রূপান্তর হবে। যেখানে এশিয়ান গেমসের মতো বড়বড় খেলা হবে। সবাই মিলে আমরা একটি অলিম্পিক ভিলেজ করতে চাই। আমরা দেখতে চাই দেশের স্পোর্টস এন্ড গেইম অনেক এগিয়ে গেছে, তরুণ প্রজন্ম ও জাতি উপকৃত হচ্ছে। সুস্থ জাতি আমরা পাব।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়শনের মহাসচিব জোবায়দুর রহমান রানা, প্রকল্প পরিচালক কর্ণেল কুতুব উদ্দিন খান প্রমুখ।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম বলেন, ৯০ দশকের পর বড় কোন স্থাপনা হয়নি। এটি আমাদের জন্য স্বপ্ন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্বপ্নের স্থাপনা হিসেবে পরিকল্পিত হবে।
অলিম্পিক কমপ্লেক্স ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে উজ্জ্বল ভূমিকাপালন করবে জানিয়ে স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, আগামী আড়াই বছরে ২ হাজার কোটি টাকার কাজ প্রকল্পে করা হবে। প্রকল্পটি ৫-৬ বছরের মধ্যে শেষ করা সম্ভব। যদি পরবর্তী সরকার তাদের শুরু থেকে অগ্রাধিকার দেয়। আর এটি শেষ হতে ৩৪ থেকে ৩৮ কোটি টাকা লাগবে।
এর আগে সকাল ১০ টার দিকে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের শহীদ শাহাবুদ্দিন মিলনায়তনে বিভাগীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে মতবিনিময় সভা করেন সেনা প্রধান। মতবিনিময়কালে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়াও, পরিদর্শনকালে তিনি 'ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার' এর আওতায় মোতায়েনকৃত সেনাসদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পরবর্তীতে, সেনাবাহিনী প্রধান ত্রিশালে অবস্থিত অলিম্পিক ভিলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের একটি বোর্ড মিটিং এ অংশগ্রহণ করেন।
এআরজে