
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে একযোগে আগাম তরমুজ চাষ শুরু করে সফলতার পথে এগোচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। কৃষি বিভাগের নিবিড় পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানে এই চর কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে। আগাম জাতের তরমুজে বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।
ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের তিস্তা নদীর চর এলাকায় কৃষকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি গ্রুপের মাধ্যমে প্রায় ৩০০ বিঘা জমিতে আগাম তরমুজের আবাদ করা হয়েছে। এই উদ্যোগে সরাসরি অংশ নিচ্ছেন অন্তত ২৫ জন কৃষক। কৃষি বিভাগের আধুনিক প্রযুক্তিগত পরামর্শ, উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ এবং নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে এই চাষ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিস্তার চরাঞ্চলের বেলে-দোঁআশ মাটি তরমুজ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বিশেষ করে আগাম মৌসুমে তরমুজ আবাদ করলে উৎপাদন খরচ তুলনামূলকভাবে কম হয় এবং বাজারে চাহিদা ও দাম দুটোই বেশি পাওয়া যায়। এতে অল্প সময়ে ভালো লাভের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
চরাঞ্চলের কৃষক বিল্লাল, নাসির ও ফজল জানান:
টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের তিস্তার চরে ২৫ জন কৃষকের একটি গ্রুপ প্রায় ৩০০ বিঘা জমিতে আনারকলি আনারকলি ও সুইট ড্রাগন জাতের তরমুজ আবাদ করেছি। বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা, আর বিক্রি হতে পারে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত। সবকিছু ঠিক থাকলে আগাম জাতের তরমুজে বাম্পার ফলনের আশা করছি।
তারা আরও বলেন,আগে এই চরগুলো অনাবাদি পড়ে থাকত। এখন কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় তরমুজ চাষ শুরু করে আমরা আশাবাদী। ফলন ভালো হলে আমাদের জীবনে বড় পরিবর্তন আসবে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চরাঞ্চলের পতিত ও অনাবাদি জমিকে উৎপাদনের আওতায় আনতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আগাম তরমুজ চাষের ফলাফল সন্তোষজনক হলে ভবিষ্যতে এই আবাদ আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি চরাঞ্চলে ভুট্টা, সবজি ও অন্যান্য অর্থকরী ফসল চাষেও কৃষকদের উৎসাহিত করা হবে।
টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা শাহিনুর ইসলাম বলেন,টেপাখড়িবাড়ি এলাকার তিস্তা নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে একযোগে আগাম তরমুজ চাষ শুরু করে স্থানীয় কৃষকরা সফলতার পথে এগোচ্ছেন।
ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (কৃষিবিদ) মীর হাসান আল বান্না বলেন,টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের তিস্তা নদীর চর এলাকায় কৃষকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি গ্রুপের মাধ্যমে প্রায় ৩০০ বিঘা জমিতে আগাম তরমুজের আবাদ করা হয়েছে। এতে অন্তত ২৫ জন কৃষক সরাসরি যুক্ত রয়েছেন। কৃষি বিভাগের আধুনিক প্রযুক্তিগত পরামর্শ, উন্নত জাতের বীজ এবং নিয়মিত তদারকির ফলেই এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ চর কৃষিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। আগাম তরমুজ আবাদ শুধু ডিমলা উপজেলাতেই নয়, বরং বৃহত্তর পরিসরে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
সবকিছু অনুকূলে থাকলে এবং কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে, ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে ডিমলার তিস্তা চরাঞ্চল তরমুজ উৎপাদনের একটি উল্লেখযোগ্য অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে—এমনটাই আশা করছেন কৃষকরা ।
আজকালের খবর/ আরএম