"রাক্ষুসে ট্রলিং বোটের কারণে সাধারণ জেলেরা আজ সর্বস্বান্ত। অর্থনৈতিক মহাসংকটে পরিবার-পরিজন নিয়ে ধুঁকে ধুঁকে বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যুই আমাদের মুক্তির পথ। অবিলম্বে সমুদ্রে অবৈধ ট্রলিং বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিন, নয়তো আমাদের মুখে বিষ তুলে দিন।" বঙ্গোপসাগরে অবৈধ ট্রলিং, নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার ও আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে মাছের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় সংবাদ সম্মেলনে এমন চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পটুয়াখালীর আলীপুর মৎস্য বন্দর এলাকার জেলেরা।
রবিবার (৫ জুলাই) সকালে মহিপুর প্রেসক্লাব হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপকূলীয় মৎস্যজীবী ও ট্রলার মালিকরা তাদের জীবন-জীবিকার এই চরম সংকটের কথা তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে জেলেদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কলাপাড়া ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম মৃধা এবং কামাল মাঝি। তারা অভিযোগ করেন, গভীর সমুদ্রে প্রভাবশালী মহলের অবৈধ ট্রলিং ও বেহুন্দি জালসহ নিষিদ্ধ জালের ব্যবহারে মাছের প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হচ্ছে এবং নির্বিচারে পোনা ও ডিমওয়ালা মাছ নিধন করা হচ্ছে। এর ওপর ফিশ ফাইন্ডার ও জিপিএসের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছ শিকার করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ জেলেরা দিন-রাত সাগরে থেকেও মাছ পাচ্ছেন না।
বক্তারা জানান, মাছ না পাওয়ায় জেলেরা এনজিও ও মহাজনী ঋণের কিস্তি শোধ করতে পারছেন না। অনেক জেলে বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করে ঢাকায় চলে গেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহার বিরুদ্ধে চরম নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ এনে জেলেরা বলেন, শিববাড়িয়া চ্যানেলে ৬০টিরও বেশি ট্রলিং বোট খোলামেলাভাবে ইলিশের পোনাসহ বিভিন্ন ছোট মাছ বিক্রি করলেও তিনি ‘কাঠের চশমা’ পরে বসে আছেন। অভিযোগ করলেও কোনো প্রতিকার মিলছে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা নিজের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে বলেন, "অর্থ বরাদ্দ না থাকায় আমরা অভিযান পরিচালনা করতে পারছি না। তাছাড়া অভিযান চালিয়ে মামলা করলেও ৭-১০ দিনের মধ্যে আসামিরা কোর্ট থেকে জামিন পেয়ে যায়। তাই এই আইনেরও সংশোধন দরকার।"
সংবাদ সম্মেলন থেকে অবৈধ ট্রলিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ, সমুদ্রে নিয়মিত কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর অভিযান পরিচালনা, নিষিদ্ধ জাল জব্দ এবং সুনীল অর্থনীতি রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রলার মালিক ও জেলে প্রতিনিধি হারুন খান, আল-আমিন কাডারু, নুরুল ইসলাম, সিদ্দিক ফকির, রুবেল বয়াতিসহ অর্ধশতাধিক প্রান্তিক জেলে ও ট্রলার মালিক উপস্থিত ছিলেন।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব