নওগাঁর সাপাহার সরকারি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাধ্যতামূলক কোচিং ফি আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কোচিং ক্লাসে অংশ না নিলেও প্রায় সাড়ে ৫শ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জনপ্রতি ২ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়েছে বলে জানা গেছে। টাকা না দিলে পরীক্ষার প্রবেশপত্র (অ্যাডমিট কার্ড) আটকে রাখার মতো ঘটনাও ঘটেছে, যা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
কলেজ সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চলতি ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ফরম পূরণের সময় কলেজ কর্তৃপক্ষ বাধ্যতামূলক কোচিংয়ের নির্দেশনা দেয়। গত ২ মার্চ কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. নাজির উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক নোটিশে কোচিং ফি ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয় এবং ফরম পূরণের সময় অগ্রিম ১ হাজার টাকা জমা নেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্লাসের অল্প কিছু শিক্ষার্থী এই কোচিংয়ে অংশ নিলেও অধিকাংশ শিক্ষার্থীই এতে অংশ নেননি। অথচ পরীক্ষার আগে প্রবেশপত্র বিতরণের সময় বাকি টাকাসহ পুরো ২ হাজার টাকা পরিশোধ করতে সবাইকে বাধ্য করা হয়। টাকা দিতে না চাইলে প্রবেশপত্র দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের অনেকেরই অতিরিক্ত কোচিংয়ের প্রয়োজন ছিল না। এরপরেও জোরপূর্বক এই ফি আদায় করা হয়েছে। এটি আমাদের ওপর এক ধরণের অযৌক্তিক আর্থিক নির্যাতন। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।"
বাধ্যতামূলক ফি আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে সাপাহার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. নাজির উদ্দিন বলেন, “শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের স্বার্থেই কলেজের উদ্যোগে এই অভ্যন্তরীণ কোচিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এতে অনেক শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে, আবার অনেকে নেয়নি।”
তবে কোচিংয়ে অংশ না নেওয়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জোর করে ফি আদায় এবং প্রবেশপত্র আটকে রাখার অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
নিয়ম বহির্ভূতভাবে এভাবে অর্থ আদায়ের ঘটনায় উপজেলার সচেতন মহল ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। ভুক্তভোগীরা এই বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও জরুরি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব