পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের সোনাখালী গ্রামে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রায় অর্ধশত বছরের ভোগদখলীয় জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। শনিবার (৪ জুলাই) সকালে দেশীয় অস্ত্র ও ভাড়াটে লোকবল নিয়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ সোনাখালী মৌজার ১ একর ১০ শতাংশ সম্পত্তি স্বপন কুমার বিশ্বাস দুলাল ১৯৭৯ সাল থেকে পৈত্রিক ওয়ারিশদের দানপত্র দলিল মূলে মালিক হয়ে ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি উত্তর সোনাখালী গ্রামের মৃত কার্তিক চন্দ্র ঢালির ছেলে মনোরঞ্জন ঢালী ওই জমিতে মালিকানা দাবি করলে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় স্বপন কুমার বিশ্বাস মঠবাড়িয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত জমিটিতে স্থিতিশীল পরিস্থিতি বজায় রাখতে থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন।
অভিযোগ রয়েছে, আদালতের সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শনিবার সকালে মনোরঞ্জন ঢালী, তার ছেলে ঝন্টু ঢালী এবং আরও ২০-২৫ জন ভাড়াটে লোক নিয়ে ওই জমি দখলের চেষ্টা চালায়। তারা জমির মাটি কেটে রূপ পরিবর্তনের চেষ্টা করলে স্বপন কুমার বিশ্বাস বাধা দেন। এ সময় তাকে খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হয়। পরে তার চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসলে দখলকারীরা পালিয়ে যায়।
রবিবার (৫ জুলাই) ভুক্তভোগী স্বপন কুমার বিশ্বাসসহ স্থানীয় বাসিন্দা জুথিকা রানী, সজল হাওলাদার ও পিন্টু বিশ্বাস সাংবাদিকদের কাছে এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ শাহ আলম বলেন, "ওই জমিটি দীর্ঘ বছর ধরে স্বপন কুমার বিশ্বাসের দখলে রয়েছে। আমার জানামতে সেখানে মনোরঞ্জন ঢালীর কোনো জমি নেই। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশ বৈঠক হলেও মনোরঞ্জন ঢালী কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।"
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মনোরঞ্জন ঢালীর ছেলে ঝন্টু ঢালী বলেন, "আমরা কারও জমি দখল করতে যাইনি। আমাদের নিজস্ব জমিতেই আমরা কাজ করতে গিয়েছিলাম।"
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব