গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় স্বল্প খরচে হাঁপানি (এ্যাজমা) রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসাসেবা প্রদান করে প্রশংসা কুড়াচ্ছে ‘বাংলাদেশ এ্যাজমা ফাউন্ডেশন’। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নির্ধারিত দিনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা হচ্ছে।
শনিবার (৪ জুলাই) উপজেলার বেলকা এ্যাজমা সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই বিভিন্ন ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকা থেকে আসা হাঁপানি রোগীদের ব্যাপক ভিড়। নিবন্ধন শেষে পর্যায়ক্রমে রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ নিচ্ছেন।
ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, এই কার্যক্রমে বার্ষিক নিবন্ধন ফি মাত্র ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া নতুন রোগীর জন্য চিকিৎসক ফি ১০০ টাকা এবং পুরাতন রোগীর জন্য মাত্র ৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এখানে রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন হাঁপানি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. শাহরিয়া রোকন।
উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের ৭০ বছর বয়সী রোগী জয়নাল আবেদীন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে হাঁপানির সমস্যায় ভুগছি। আগে চিকিৎসার জন্য দূরে যেতে হতো এবং অনেক টাকা খরচ হতো। এখন উপজেলার মধ্যেই স্বল্প খরচে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা পাচ্ছি। এতে আমাদের মতো সাধারণ মানুষ অনেক উপকৃত হচ্ছে।”
সেন্টারটির সময়সূচি অনুযায়ী, প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার বেলকা এ্যাজমা সেন্টারে, রবিবার ও বুধবার পাঁচপীর বাজারে এবং সোমবার ও বৃহস্পতিবার বামনডাঙ্গার পল্লীবন্ধু হাসপাতালে এই চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।
চিকিৎসক ডা. মো. শাহরিয়া রোকন বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো তৃণমূল পর্যায়ের হাঁপানি রোগীদের দোরগোড়ায় স্বল্প খরচে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া। হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রোগীদের সচেতনতা এবং নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।”
বাংলাদেশ এ্যাজমা ফাউন্ডেশনের সুন্দরগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক হুমাইয়া নাসরিন আক্তার বিথী জানান, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে তারা নিরলস কাজ করছেন এবং ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব