জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেছেন, সীমান্ত হত্যা যদি আরও বাড়ে এবং সরকার যদি তা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে না পারে, তবে জনগণকে সাথে নিয়ে সীমান্তের দিকে লংমার্চ করা হবে।
তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, "সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে না পারলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চুড়ি পরে ঘরে বসে থাকতে হবে।"
মঙ্গলবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত কলেজছাত্র মো. মোরসালিনের কবর জিয়ারত শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী অভিযোগ করে বলেন, ভারত সীমান্তঘেঁষা এলাকায় পরিকল্পিতভাবে মাদক উৎপাদন ও পাচার বাড়ানো হচ্ছে, যার শিকার হচ্ছে বাংলাদেশের যুবসমাজ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, "বাংলাদেশে এতো ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজা আসে কীভাবে? এই জবাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেই দিতে হবে।" তিনি আরও জানান, এনসিপি সরকার গঠন করতে পারলে মাদক পাচার রোধে সীমান্তবর্তী এলাকায় খাল খননের উদ্যোগ নেবে। কসবায় আসার পথে তাকে বিভিন্ন জায়গায় বাধা দেওয়া হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, "আমি এদেশের নাগরিক, আমি কোথায় যাব তা অন্য কেউ ঠিক করে দিতে পারে না।"
দেশে সাংবাদিক ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় সম্প্রতি এখানে এক সাংবাদিক খুন হয়েছেন। সাংবাদিকরাই যদি নিরাপদ না থাকেন, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় নিরাপদ? কবর জিয়ারত শেষে এনসিপির প্রতিনিধিদলটি নিহত ও আহত পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করে এবং সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের সাথে মতবিনিময় করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য উইং সমন্বয়ক ডা. আশরাফ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় সংগঠক মিয়াজ মেহরাব তালুকদার, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জিহান, মোস্তাক আহমেদ শিশির এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক আদেল।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব