নিকলী উপজেলার ধনু নদীর কাশিমপুর এলাকায় ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় ১টি ড্রেজার ও ৪ জন শ্রমিককে আটক করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভ’মি) মো. শহীদ উল্লাহ।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ভোর রাতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়।
ড্রেজারের মালিক মো. আনোয়ার হোসেনকে ২ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১ মাসের সাজা প্রদান করেন।
জানা গেছে, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে নিচু জমি ভরাট করে আবাসন সমস্যার সমাধান ও উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহারের জন্য নিকলীতে বালুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আর এ সুযোগে নিকলীতে একটি সংঘবদ্ধচক্র বালুমহাল নীতিমালার তোয়াক্কা না করে বিক্রির উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে ধনু ও ঘোড়াউত্রা নদী থেকে বালু উত্তোলন করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়
প্রভাবশালী, রাজনৈতিক ব্যক্তি, এমনকি স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের যোগসাজেশে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ
রয়েছে।
এভাবে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদী গতিপথ হারাচ্ছে এবং সিংপুর ইউনিয়নে ব্যাপক নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। এছাড়াও উপজেলার নদী তীরবর্তী অসংখ্য বসতবাড়ি, ফসলি আবাদি জমি ভাঙনের মুখে পড়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বহিষ্কৃত কতিপয় নেতাকর্মী অবৈধভাবে বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
নিকলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. মো কফিল উদ্দিন বলেন, ধনু নদীতে সিংপুর ইউনিয়নের বহিষ্কৃত ইউনিয়ন সভাপতি হারুন অর রশিদ ও ঘোড়াউত্রা নদী থেকে উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত ক্রীড়া সম্পাদক মনির, বহিষ্কৃত ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক আজহারুল ইসলাম সোহেল ও রিয়াজ উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি চক্র চৈন্তী ঘাট সংলগ্ন
চুটুউল্লা নামক স্থানে বেশ কয়েকদিন ধরে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চালিয়ে যাচ্ছে।
আটক হওয়া ড্রেজার ও ৪ শ্রমিককে ছাড়াতে হারুন ও মনিরসহ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত অনেকেই ভ’মি অফিসে
যান।
এ ব্যাপারে হারুন ও মনিরের সঙ্গে কথা বললে দু’জনই অবৈধভাবে বালু উত্তেলনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
সহকারী কমিশনার ভূমি কার্যালয়ে কি করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে দু’জনই বলেন- খারিজের কাজ ছিল।
নিকলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শহীদ উল্লাহ বলেন, নিকলীতে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা কবে।
২০১০ সালের বালুমহাল আইনে বলা আছে, বিপণনের উদ্দেশ্যে কোনো সরকারি মালিকানাধীন উন্মুক্ত স্থান, চা-বাগানের ছড়া বা নদীর তলদেশ থেকে বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। আইন অমান্যকারীর ২ বছর কারাদন্ড বা সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দন্ডিত হবেন। উক্ত অপরাধে ব্যবহৃত ড্রেজার বা বালুবাহী যানবাহন বা সংশ্লিষ্ট সামগ্রী সরকারের অনুক’লে বাজেয়াপ্ত হবে।
আজকালের খবর/বিএস