কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ‘টার্গেট কিলিং’ আতঙ্ক। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে পৃথক দুটি সশস্ত্র হামলায় দুই রোহিঙ্গা নেতা নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাধারণ রোহিঙ্গাদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
সর্বশেষ বুধবার (০৬ মে) দুপুরে উখিয়ার ৮-ইস্ট নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি/৪১ ব্লকে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের গুলিতে নুর কামাল নামে এক হেড মাঝি গুরুতর আহত হন। পরে বিকেলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত নুর কামাল ওই ব্লকের হেড মাঝির দায়িত্বে ছিলেন এবং তিনি আলোচিত সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘এআরএ’ প্রধান নবী হোসেনের ভাই বলে জানা গেছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার (০৫ মে) সন্ধ্যায় ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় একই কায়দায় হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। ওই হামলায় কেফায়েত উল্লাহ হালিম নামে এক রোহিঙ্গা নেতা নিহত হন, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘হালিম গ্রুপ’-এর প্রধান হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ওই একই ঘটনায় আরও দুইজন রোহিঙ্গা গুলিবিদ্ধ হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ক্যাম্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উভয় হত্যাকাণ্ডেই হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থেকে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ক্যাম্পগুলোতে আধিপত্য বিস্তার এবং গ্রুপ ভিত্তিক দ্বন্দ্বের জেরে এই টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনা ঘটছে।
১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ সিরাজ আমীন জানান, হামলার সংবাদ পাওয়া মাত্রই পুলিশি তৎপরতা শুরু করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-এর অধিনায়ক মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “ঘটনার পরপরই আমরা ক্যাম্প এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছি। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুজিবুল হক জানিয়েছেন, দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাই পুলিশ গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে ঘন ঘন এমন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও খুনের ঘটনায় ক্যাম্পের সাধারণ বাসিন্দারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য কমাতে আরও কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ও রোহিঙ্গারা।
আজকালের খবর/কাওছার