বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি সরকারি দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা নির্বাচন অফিস, সমবায় অফিস, মহিলা বিষয়ক দপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস এবং পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় অভিভাবকহীন অবস্থায় চলায় সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষে উপজেলা পর্যায়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্তর হিসেবে বিবেচনা করা হলেও আদমদীঘিতে চিত্রটি ভিন্ন। গত কয়েক মাস ধরে এই ছয়টি দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তাদের পদগুলো শূন্য পড়ে আছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাশের উপজেলার কর্মকর্তারা অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে অথবা স্থানীয় অফিসের কর্মকর্তারা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে কাজ চালাচ্ছেন।
অভিযোগ উঠেছে, স্থায়ী কর্মকর্তা না থাকায় ভারপ্রাপ্তরা নিয়মিত অফিসে বসেন না, ফলে দৈনন্দিন কাজে দায়সারা মনোভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশেষ করে মাধ্যমিক শিক্ষা ও পরিবার পরিকল্পনার মতো জনগুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হওয়ায় শিক্ষক ও সেবাগ্রহীতারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এছাড়া নির্বাচন ও মহিলা বিষয়ক দপ্তরেও প্রয়োজনীয় নথিপত্র স্বাক্ষরসহ দাপ্তরিক কাজে দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে ছোট একটি কাজের জন্য তাদের দিনের পর দিন অফিসে আসা-যাওয়াই সার হচ্ছে।
এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দ্রুত এসব শূন্য পদে স্থায়ীভাবে প্রধান কর্মকর্তা নিয়োগ না দিলে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা আরও বাড়তে পারে। তারা অতি দ্রুত স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাসুমা বেগম বলেন, "একসাথে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে নিয়েছি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবগত করা হবে যাতে দ্রুত এখানে কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হয়।"
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব