গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় শ্রমিক সংকট ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে বোরো ধান কাটা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। সময়মতো পাকা ধান ঘরে তুলতে না পারায় এবং দফায় দফায় বৃষ্টিতে ধান ভিজে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হওয়ায় কৃষকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। অনেক স্থানে পাকা ধান ক্ষেতেই পড়ে আছে, আবার কোথাও কাটা ধান মাড়াই করতে না পারায় ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন বিলে ধান পেকে গেলেও পর্যাপ্ত শ্রমিকের অভাবে তা কাটা সম্ভব হচ্ছে না। বাইরে থেকে আসা শ্রমিকদের মজুরি এবার অনেক বেশি, যা সাধারণ কৃষকদের নাগালের বাইরে। তারাশী গ্রামের কৃষক হিটু তালুকদার আক্ষেপ করে বলেন, "শ্রমিকের অভাবে পাকা ধান জমিতে পড়ে আছে। যে অল্প সংখ্যক শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে, তাদের মজুরি এতো বেশি যে ধান ঘরে তুলতে খরচই উঠবে না, লাভ তো দূরের কথা।"
এদিকে বৃষ্টির কারণে নিচু জমিগুলোতে পানি জমে যাওয়ায় যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান কাটাতেও বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। কান্দি গ্রামের কৃষক সুরেস মধু জানান, জমিতে পানি জমে থাকায় মেশিন নামানো যাচ্ছে না। অন্যদিকে ধান মাড়াইয়ের ক্ষেত্রে নতুন সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে ডিজেলের ঘাটতি। জ্বালানি সংকটে অনেক মাড়াই মেশিন চালানো সম্ভব হচ্ছে না, ফলে কাটা ধান খোলা আকাশের নিচেই পড়ে থাকছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কোটালীপাড়ায় ২৬ হাজার ৭৯৪ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আবাদ হয়েছে ২৬ হাজার ৮০৩ হেক্টর। তবে গত ২০ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত মাত্র ৬ হাজার ৯৬৭ হেক্টর জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। এখনো প্রায় ১৯ হাজার ৮৩৪ হেক্টর জমির ধান অর্থাৎ মোট আবাদের প্রায় ৭৬ শতাংশ ধান কাটা বাকি রয়ে গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার দোলন চন্দ্র রায় বলেন, "বৃষ্টির কারণে নিচু জমিতে পানি জমে থাকায় কম্বাইন হারভেস্টার বা রিপার মেশিন ব্যবহার করতে সমস্যা হচ্ছে। উপজেলায় ১৮টি কম্বাইন হারভেস্টার ও ১৫৬টি রিপার মেশিন থাকলেও সব জায়গায় সেগুলো চালানো যাচ্ছে না।" তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ২০ থেকে ২৫ মে’র মধ্যে ধান কাটার কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। কৃষি বিভাগ কৃষকদের এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।
আজকালের খবর/কাওছার