জোরপূর্বক গরু-ছাগলের হাট বাসিয়ে যথারীতি টাকা কামিয়ে নিচ্ছেন হাটের ইজারাদাররা। কিন্তু তাদের এই জোর জবরদস্তির কারণে লেখাপড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
এই রকম জোরপূর্বক ঘটনা ঘটে যাচ্ছে কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নের আঠারো বাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে। সপ্তাহের প্রতি বুধবার বসে গরু-ছাগলের হাট।
আঠারো বাড়িয়া স্কুল থেকে প্রায় ৫’শ গজ দুরে গোপী রায়ের বাজার রয়েছে। মূলত গোপী রায়ের বাজারেই গরু ছাগলের হাট বসার কথা। গোপী রায়ের বাজারে জায়গা কম থাকায় দীর্ঘদিন ধরে আঠারো বাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠটি গরু-ছাগলের হাট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাস্তাসহ স্কুলে মাঠে তিল ধারনের ঠাঁই থাকে না গরু ছাগল ও মানুষের জন্য। সকাল থেকে শুরু হয়ে রাত পর্যন্ত চলে এ হাট। হাটে আসা লোকজনের হইচই, গরু-ছাগলের বর্জ্যরে দুর্গন্ধ ও গবাদিপশুর চিৎকার চেচাঁমেচিতে শিক্ষার পরিবেশ না থাকায় কোমলমতি শিক্ষর্থীরা স্কুলে আসে না। গরু-ছাগলের বর্জ্য অপসারন না করায় সপ্তাহ জুড়ে দুর্গন্ধ স্কুল চত্বরকে বিষিয়ে রাখে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্থসহ ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
স্কুল মাঠ থেকে গরু-ছাগলের হাট সরানোর দাবিতে বিগত সময়ে অনেকবার স্কুল শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও এলাকাবাসী মিছিল সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে। এতে কোনো কাজ হয়নি।
গত ২১ জানুয়ারি স্থানীয় প্রশাসন, তৎকালীন নিকলী সেনা ক্যাম্পের সৈনিক ও নিকলী থানা পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল মাঠ থেকে গরু-ছাগলের হাট উচ্ছেদ করেন। স্কুল মাঠটি দখলমুক্ত হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু উচ্ছেদের এক সপ্তাহ পরেই ইজারাদার পূণরায় স্কুল মাঠে গরু-ছাগলের হাট বসানো শুরু করেন।
স্কুল মাঠে গরু-ছাগলের হাট বসানোর অপরাধে স্থানীয় প্রশাসন ইজারাদারকে দু’দফায় ৬ লক্ষ টাকা জরিমানাও করেন। এসব ব্যবস্থা গ্রহন করেও স্কুল মাঠ থেকে ইজারাদারকে অপসারণ করা যাচ্ছে না।
বুধবার (৬ মে) থেকে নিকলী উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ম সাময়িক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। স্কুল মাঠে গরুর হাট বসায় ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষা দিতে অনেক কষ্ট পোহাতে হয়েছে। ফলে স্কুল মাঠ থেকে স্থায়ী ভাবে গরু-ছাগলের হাট অপসারণ করতে স্থানীয় প্রশাসন ব্যর্থ নাকি অসহায় এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
ইজারাদার মোকারম সর্দার বলেন, স্কুল মাঠে গরুর হাট বসেছে আমি শুনেছি, যারা বাজার পরিচালনা করছে স্কুল মাঠ
থেকে গরু-ছাগল সরানোর জন্য বলে দিচ্ছি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জোবেদা বলেন, আমি পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম, তাই স্কুল মাঠে গরুর হাট বসেছে বিষয়টি এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষকে জানানো সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহানা মজুমদার মুক্তি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ দখল করে গরু-ছাগলের হাট বসানো সম্পূর্ণ অবৈধ, স্কুল মাঠ থেকে গরুর-ছাগলের হাট সরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
আজকালের খবর/বিএস