শনিবার ২৫ এপ্রিল ২০২৬
একান্ত সাক্ষাৎকারে গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা
সমন্বিত রূপান্তরের পথে এগোচ্ছে গাজীপুর জেলা পরিষদ
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৪১ পিএম  আপডেট: ২৫.০৪.২০২৬ ৮:০৩ পিএম  (ভিজিট : ২২০)
গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক  ব্যারিস্টার চৌধুরী ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী দৃঢ় নেতৃত্বে গাজীপুর জেলা পরিষদকে দেশের একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বনির্ভর মডেল প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে চলছে বহুমুখী কার্যক্রম, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রস্তাবিত ৩২তলা মাল্টি-কমপ্লেক্স ভবন। 

গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. নজরুল ইসলাম সম্প্রতি দৈনিক আজকালের খবকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে গাজীপুর নিয়ে নানা রূপান্তরের বিষয়ে আলোচনা করে। 

তিনি জানান, প্রশাসনিক সংস্কার থেকে শুরু করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাজস্ব বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ-সবকিছু মিলিয়ে একটি সমন্বিত রূপান্তরের পথে এগোচ্ছে গাজীপুর জেলা পরিষদ।

প্রশ্ন: দায়িত্ব নেওয়ার পর গাজীপুর জেলা পরিষদে কী ধরনের পরিবর্তন এনেছেন? 

জবাবে নজরুল ইসলাম বলেন: আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর সর্বপ্রথম গুরুত্ব দিয়েছি শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায়। পূর্বে যে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল, সেগুলো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের সরিয়ে একটি স্বচ্ছ প্রশাসনিক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। এখন প্রতিটি কাজ নথিভুক্ত হচ্ছে, ফাইল মেইনটেন হচ্ছে, কর্মচারীদের আইডি কার্ড, জেলা পরিষদের লগোসহ নথি ফাইল বুক, খাম, ঠিকাদারদের আধুনিক বই প্রদান করা হয়েছে এবং একটি ডিসিপ্লিনের মধ্যে পুরো প্রতিষ্ঠানকে আনা হয়েছে।

প্রশ্ন: ৩২ তলা মাল্টি-কমপ্লেক্স ভবন প্রকল্পটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ? 

নজরুল ইসলাম: এটি আমাদের ভিশন প্রজেক্ট এবং গাজীপুর জেলা পরিষদের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। এই ৩২ তলা ভবনটি শুধু একটি প্রশাসনিক ভবন নয়, বরং একটি বহুমুখী সেবা ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হবে। ইতোমধ্যে সয়েল টেস্ট ও পাইলিং কাজ শুরু হয়েছে এবং প্রাথমিক ডিজাইন সম্পন্ন হয়েছে। এখানে থাকবে অত্যাধুনিক থ্রিডি কনফারেন্স রুম, কনভেনশন সেন্টার, প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, বাণিজ্যিক স্পেস, আধুনিক ডাকবাংলো এবং ডিজিটাল সার্ভিস সেন্টার। আমরা আন্তর্জাতিক মান, বিশেষ করে চীনের আধুনিক নগর পরিকল্পনার আদলে এই ভবন নির্মাণ করতে চাই, যা গাজীপুরের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।

প্রশ্ন: এই বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়নের পরিকল্পনা কী? 

নজরুল ইসলাম: আমরা ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ কোটি টাকার বাজেট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব করেছি। পাশাপাশি নিজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য জেলা পরিষদের সম্পদগুলোকে কাজে লাগানো হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে আমরা স্বনির্ভরভাবে বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারি।

প্রশ্ন: জেলা পরিষদের রাজস্ব বৃদ্ধিতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? 

নজরুল ইসলাম: অতীতে অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে অনেক সম্পদ নষ্ট হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে ইসলামপুর, নাওজোর, কালিয়াকৈর, কাপাসিয়া, শ্রীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় দখলকৃত জমি উদ্ধার করেছি। এসব জমিতে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কালিয়াকৈরে বহুতল কমার্শিয়াল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ চলছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জেলা পরিষদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

প্রশ্ন: শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে? 

নজরুল ইসলাম: আমরা মানবিক ও সেবামূলক দিকটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। তিন বছর বন্ধ থাকা বৃত্তি কার্যক্রম পুনরায় চালু করছি এবং আগামী দুই বছর এসএসসি ও এইচএসসি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করা হবে। এছাড়া দরিদ্র, অসহায়, প্রতিবন্ধী, বধির ও অন্ধ জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে জেলা পরিষদ আগের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।

প্রশ্ন: প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী? 

নজরুল ইসলাম: আমরা পুরো জেলায় ওয়াইফাই-ভিত্তিক একটি ডিজিটাল সাপোর্ট সিস্টেম চালুর পরিকল্পনা নিয়েছি। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী, তরুণ প্রজন্ম এবং সাধারণ মানুষ তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা পাবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে স্থানীয় পর্যায়ে এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা মনে করি।

প্রশ্ন: অবকাঠামো উন্নয়নে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে? 

নজরুল ইসলাম: রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্টসহ সব উন্নয়ন কাজে আমরা টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুসরণ করছি। জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণকে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করা হয়েছে, ফুলের বাগান, নান্দনিক স্থাপনা ও মানচিত্রভিত্তিক ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধি নয়, বরং একটি আধুনিক প্রশাসনিক পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হয়েছে।

প্রশ্ন: ডাকবাংলো ও অন্যান্য সম্পদের উন্নয়ন নিয়ে কী পরিকল্পনা রয়েছে? নজরুল ইসলাম: আমাদের পাঁচটি উপজেলায় ডাকবাংলো রয়েছে, যেগুলোকে আধুনিকভাবে সংস্কার করে আয়বর্ধক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এসব থেকে আয় শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এটি জেলা পরিষদের একটি বড় রাজস্ব উৎস হবে।

প্রশ্ন: গাজীপুর জেলা পরিষদকে নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য কী? 

নজরুল ইসলাম: আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট-গাজীপুর জেলা পরিষদকে দেশের সেরা এবং একটি রোল মডেল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা-এই চারটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। বিশেষ করে ৩২ তলা মাল্টি-কমপ্লেক্স ভবনটি বাস্তবায়িত হলে এটি গাজীপুরের উন্নয়নের প্রতীক হয়ে উঠবে এবং সারাদেশের জেলা পরিষদের জন্য একটি অনুসরণীয় মডেল তৈরি করবে।

এ সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে পরিকল্পিত উন্নয়ন, কঠোর প্রশাসনিক সংস্কার এবং বৃহৎ অবকাঠামো বিনিয়োগের সমন্বয়ে গাজীপুর জেলা পরিষদ একটি নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। ৩২ তলা মাল্টি-কমপ্লেক্স ভবনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই রূপান্তর কেবল একটি প্রকল্প নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন দর্শন-যা বাস্তবায়িত হলে গাজীপুর সত্যিই দেশের অন্যতম আধুনিক জেলা পরিষদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

আজকালের খবর/বিএস 









Advertisement
সর্বশেষ সংবাদ
চার হাজার বন্দির গল্পে সঞ্জয় দত্তের ‘খলনায়ক রিটার্নস’
‘গৌতমের মনোজগতের রঙে সিদ্ধার্থকে আঁকা হয়েছে’
ইরানের তেল কেনায় চীনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাষ্ট্র
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে নতুন উদ্যমে কাজ করছে দেশবন্ধু গ্রুপ
উলিপুরে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর নির্যাতনের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি
বিরোধীরা অরাজকতা করলে রাজপথে মোকাবিলার হুঁশিয়ারি বিএনপির
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor@gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor@gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft