দেশের বিরাজমান সংকটে অর্থনীতির গতি বৃদ্ধি, বেকারত্ব ঘোচাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও নিজেদের ব্যবসার কলেবর বাড়িয়ে উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে নতুনভাবে উদ্যোগ নিয়েছে দেশবন্ধু গ্রুপ। এ লক্ষে নতুন উদ্যমে, নতুন উদ্দিপনায় সকল শিল্প প্রতিষ্ঠান ও তার কর্মীরা জেগে উঠেছে।
তাদের উৎসাহ দিতে ও কারখানার উৎপাদন এবং রপ্তানি পরিস্থিতি দেখতে আজ শুক্রবার নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার চরসিন্ধুরে দেশবন্ধু গ্রুপের একাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান শিল্পপতি গোলাম মোস্তফা। এদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল পর্যন্ত তিনি দেশবন্ধু পলিমার, বেভারেজ এবং সুগার মিলের কারখানা ঘুরে দেখেন। পরির্দশনকালে চেয়ারম্যানের সঙ্গে ছিলেন দেশবন্ধু গ্রুপের আবাসিক পরিচালক এবিএম আরসাদ হোসেন, দেশবন্ধু পলিমার লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী শাখাওয়াত হোসেন, দেশবন্ধু ফুড এন্ড বেভারেজের ব্যবস্থাপক সালাউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
এসময় তিনি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে কথা বলেন ও কারখানার বিভিন্ন সমস্যা এবং সংকটের বিষয়ে অবহিত হন। একই সঙ্গে চিহ্নিত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন তিনি। দেশবন্ধু গ্রুপকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সবার সহযোগিতা চাইলেন গোলাম মোস্তফা।
কারখানা পরিদর্শন শেষে দেশবন্ধু গ্রুপের চেয়ারম্যান শিল্পপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, দেশবন্ধু সুগার মিলসহ গ্রুপের বড় বড় কয়েকটি প্রকল্প স্থাপন ও সম্প্রসারণে মনোনিবেশ করেছে দেশবন্ধু গ্রুপ। আশা করছি খুব শিগগিরই দেশবাসী তা দেখতে পাবে। সবকিছু ঠিকঠাক মতো এগোলে বছরে দেশবন্ধু গ্রুপের অতিরিক্ত রপ্তানি আয় বাড়বে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার।
দেশবন্ধু গ্রুপের চেয়ারম্যান শিল্পপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, দেশবন্ধু গ্রুপ চেষ্টা করছে, দেশের ও জনগণের জন্য কিছু করার। দেশবন্ধু গ্রুপের বিনিয়োগে বর্তমানে ২৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। নতুন পরিসরে আরো ব্যাপক বিনিয়োগের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, দেশবন্ধু গ্রুপ সরকারের রুগ্ন শিল্প বেসরকারিকরণের মাধ্যমে নিয়ে তা চালু করে এক অনন্য নিদর্শন সৃষ্টি করেছে।
তার উজ্জ্বল উদাহরণ হলো দেশবন্ধু সুগার মিল। ক্রমাগত লোকসানে ১৯৯৫ সালে মিলটি বন্ধ হওয়ার পর সরকারের বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০০১ সালে দেশবন্ধু গ্রুপ মিলটি ক্রয় করে চালু করে। বর্তমানে একই ধরনের আরো একটি মিল প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলছে।
তিনি বলেন, দেশের বর্তমান চিনির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রপ্তানির লক্ষ্যে বর্তমান মিলের পাশাপাশি ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ড ১৫০০ টন ক্যাপাসিটি নতুন আরো একটি মিলস স্থাপনের জন্য মেশিনারিজ সিলেকশন প্ল্যান্ট পরিকল্পনা ও সার্বিক ফিজিবিলিটি স্টাডি করে দরপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। চলতি বছরেই তা বাস্তবায়নে নিরলস কাজ চলছে।
দেশবন্ধু গ্রুপের ব্যবসায়িক পরিধি সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে শত ভাগ রপ্তানি উপযোগী এফআইবিসি ব্যাগ উৎপাদনের জন্য ইতোমধ্যে অবকাঠামোগত নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং সম্পূর্ণ ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ড অটোমেটেড মেশিনারি দিয়ে উৎপাদন শুরু হলে আরো ২০০০ স্থানীয় লোকের নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।
তিনি বলেন, দেশবন্ধু গ্রুপের নতুন প্রকল্প পিএসএফ অ্যান্ড পিইটি ইন্ডাস্ট্রিজ দ্রুত স্থাপন করা হবে। প্রকল্পের কাজ পুরোদমে শুরু হলে বিশ্ব সিনথেটিক ফাইবারের বাজার নিয়ন্ত্রণ করবে দেশবন্ধু গ্রুপ। তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গেও জনপ্রিয় দেশবন্ধু টেক্সটাইল মিলসের পরিধি আরো বাড়ানো হচ্ছে। সেখানকার উৎপাদন লাইন বাড়িয়ে ৮২ লাইনে উন্নতি করা হবে। যেখানে আধুনিক মানের সব ডেনিম উৎপাদন হবে।
এছাড়া সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে প্রায় ৫০ একর জায়গাজুড়ে দেশবন্ধু স্টিল রি-রোলিং মিলস, কনজুমার গুডস, ইলেকট্রিক ভেহিকেলস্ অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্ট, ইকো ব্রিক্স ইন্ডাস্ট্রি, লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি প্ল্যান্টের জন্য নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। গ্রুপের বাস্তবায়নাধীন আরো যেসব প্রকল্প রয়েছে- এর মধ্যে মোংলা বন্দরের পাশেই পাওয়ার প্যাক ইকোনমিক জোন, মোংলায় ৩৩ একর জায়গাজুড়ে পিএসএফ অ্যান্ড পিইটি ইন্ডাস্ট্রিজ স্থাপনের কার্যক্রমের অংশ হিসাবে টেকনিক্যাল পাটনার ক্যামট্যাক্স সাংহাই (চায়না) ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড এবং চায়না ন্যাশনাল কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড (সিঅ্যান্ডসিইসি) সঙ্গে ৫০০ মিলিয়ন ইউএসডি ডলার বিনিয়োগ চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। এখানে প্রায় ২০০০ লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এছাড়া অন্যান্য ব্যবসায়িক কলেবর বৃদ্ধির পরিকল্পনার অংশ হিসাবে ডেভেলপমেন্ট অব প্রাইভেট ইকোনমিক জোন (পিপিপি), দেশবন্ধু ফার্মাসিউটিক্যালস, সোলার প্যানেল ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট, অ্যানিমেল ফিড ইন্ডাস্ট্রি ছাড়াও দেশের ৬৪টি মেডিক্যাল সেন্টার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে গ্রুপটির।
আজকালের খবর/ এমকে