
প্রয়োজন ছাড়া মোবাইলফোন ব্যবহার করার পক্ষে নন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী জয়া আহসান।
তিনি মনে করেন, মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্ক গড়ে তুলতে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মোবাইলফোন। তাই সম্ভব হলে এবং প্রয়োজন না থাকলে, মোবাইল হাতে না নেওয়া ভালো বলে মন্তব্য করেন জয়া।।
কদিন আগে একটি টেলিভিশন স্টেশনের পডকাস্ট অনুষ্ঠানে এসে কথা বলছিলেন অভিনেত্রী। সেখানে প্রয়োজন ছাড়া মোবাইল ফোন ব্যবহার না করার কারণ তুলে ধরে বেশ কিছু পরামর্শও দিয়েছেন জয়া।
জয়া আহসান বলেন, শুটিং সেটে আমি পারতপক্ষে ফোন ব্যবহার করি না। আমরা যখন বাসা থেকে বের হই তখন ফোন দেখি, আশেপাশের গাছ, মানুষ, ট্রাফিক, কে কীভাবে চলছে, রিকশাওয়ালা কীভাবে রিকশা চালাচ্ছেন, কী করে ঘাম মুছছেন এগুলো আমরা কিন্তু দেখি না, মানে আমাদের দেখতে দেয় না ফোনটা। এসব আমি যদি নাই দেখি, আমি যদি প্রকৃতির সঙ্গে, সমাজের সাথে কানেক্টেড না থাকি, আমি কী করে অভিনয় করব?"
জয়ার ভাষ্য একজন শিল্পীর অভিনয়ের গুণ বাড়াতে হয় ‘আশেপাশের পরিবেশ থেকেই’।
আশেপাশের সবকিছু পর্যবেক্ষণ করলে ইন্দ্রিয়গুলো আরও সক্রিয় হয় জানিয়ে জয়া বলেন, এসবের সংস্পর্শে থাকা এটা কিন্তু একটা থেরাপি। একজন শিল্পী যখন অন্য একজনকে স্পর্শ করে, সেই সংস্পর্শের মাধ্যমে অনুভূতি পৌঁছায়। চোখে জল আসে, হৃদয়ে অনুভূতি জাগে। কাজেই এই ইন্দ্রিয়গুলো ঘ্রাণ শক্তি, শোনা, দেখা- এগুলো বাড়াতে হয় আশেপাশের পরিবেশ থেকেই।
জয়া মনে করেন, প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বলেন, সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে আমি যদি পাখির কিচিরমিচির শুনি, ভোরের আওয়াজ শুনি, এগুলো তো একটা থেরাপি মানুষের জন্য। সমস্ত ধরণের শিল্পীদের জন্য এটা প্রয়োজন। তো এগুলো তো আমরা করি না। আমাদের মোবাইল ফোনই এই সংযোগের সবচেয়ে বড় বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। এজন্য মাঝে মাঝে মোবাইল ব্যবহার না করার অভ্যাস করা উচিত।
নিজের নাম, প্লাস্টিক সার্জারি, ফিল্মফেয়ার পুরস্কার, কলকাতায় কাজের অভিজ্ঞতাসহ নানা বিষয় নিয়েও পডকাস্টে কথা বলেছেন জয়া।
আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে জয়ার আগামী সিনেমা ‘ওসিডি’।
গেল বছরে জয়ার বেশ কয়েকটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। দেশে মুক্তি পায় ‘তাণ্ডব’, ‘উৎসব’,‘ফেরেশতে’এবং ‘জয়া আর শারমিন’।
আর কলকাতার প্রেক্ষাগৃহে আসে ‘ডিয়ার মা’ ও ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’ সিনেমা।
আজকালের খবর/বিএস