প্রকাশ: রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৪৯ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কমিউনিকেশন এন্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড স্থগিত হওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। মিছিল শেষে প্রশাসন ভবন অবরোধ করে অবস্থান নিয়ে তালা ঝুলিয়েছে তারা।
এদিকে নিয়োগ বোর্ড স্থগিতে বিভাগের সভাপতি ও বিএনপিপন্থি শিক্ষক সংগঠন ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে অনুপস্থিত থেকে ‘অসহযোগতা ও লাপাত্তা’ হওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। এতে ক্ষুব্ধ নিয়োগ পরীক্ষা দিতে আসা প্রার্থীরা। তারা জানান, ‘শুরু হতে না হতেই স্থগিত করছে। কিন্তু আমরা প্রস্তুতি নিয়ে আসলাম তার কোনো মূল্য দিলো না। সবখানে দলীয় প্রভাব। শুনলাম বিভাগের সভাপতি নাকি বিএনপির নেতা।’
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটে ভুগছে জার্নালিজম বিভাগ। মাত্র তিনজন শিক্ষক দিয়ে চলছে বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষক সংকট দূর করতে সম্প্রতি তিনটি পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এর মধ্যে সহকারী অধ্যাপক পদে দুটি ও প্রভাষক পদে একটি। তবে রোববার সকাল ১০টায় নিয়োগ বোর্ডের নির্ধারিত সময় হলেও বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান উপস্থিত হননি। তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, অনেক বিভাগে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় তীব্র সেশনজট রয়েছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিলেও একটি দল নগ্ন হস্তক্ষেপ শুরু করে দিয়েছে। তারা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে গিয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে চায়। আমরা জানতে চাই— কার ইন্ধনে আজ পরীক্ষা স্থগিত করা হলো। জাতীয় নির্বাচনের আগে নিয়োগগুলো সম্পন্ন করতে হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে জার্নালিজম বিভাগের সভাপতিকে কল দিলে মোবাইল বন্ধ রাখেন এবং অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বলেন, ১০ টায় নিয়োগ বোর্ড ছিল, সভাপতি উপস্থিত না থাকায় পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে।
পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উপাচার্য বলেন, আমাকে সরাসরি কেউ চাপ দেয়নি। তবে নিয়োগ বন্ধের জন্য ইউট্যাব চিঠি দিয়েছিল। আজকে যে উপস্থিত হননি তাকে কারণ দর্শানো নোটিশ পাঠানো হবে। এবং নিয়মতান্ত্রিক ভাবে নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে।
আজকালের খবর/বিএস