
গোপালগঞ্জ-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমানে কারাবন্দী আশ্রাফুল আলম শিমুলকে বিজয়ী করতে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন তার ১৬ বছর বয়সী ছেলে খাইরুল আলম সায়াদ। আগামী ২১ এপ্রিল এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও পড়ার টেবিলের বই-খাতা পাশে রেখে বাবার সম্মান ও মুক্তির দাবিতে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এই কিশোর।
জানা গেছে, রাজনৈতিক মামলায় আশ্রাফুল আলম শিমুল বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। বাবার কারামুক্তি ও সম্মান পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সায়াদ নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ সময় অনেক ভোটার তাকে দোয়া ও আশীর্বাদ করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাবার অনুপস্থিতিতে ছেলের এই ভূমিকা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি বলেন, শিমুল ভাই আজ কারাগারে বন্দী হলেও তার ছেলে বাবার রাজনৈতিক আদর্শ ও সংগ্রাম এগিয়ে নিচ্ছে। এটি শুধু রাজনৈতিক লড়াই নয়, এটি একটি মানবিক লড়াই—একজন পিতার সম্মান পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন আশরাফুল আলম শিমুল। স্থানীয়দের মতে, এই প্রতীকের মাধ্যমেই তার ছেলে বাবার রাজনৈতিক দর্শন ও সংগ্রামের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাচ্ছেন।
খাইরুল আলম সায়াদ বলেন, আমার বাবা কখনো কারও ক্ষতি করেননি। রাজনীতি মানেই ক্ষমতার দাপট—এটা তিনি বিশ্বাস করতেন না। মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ছিল তার রাজনীতি। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর তাকে মিথ্যা রাজনৈতিক মামলায় আটক করা হয়েছে বলে আমি মনে করি। আমি আমার বাবার নিঃশর্ত মুক্তি চাই।
তিনি আরও বলেন, আমার দাদা খাইরুল বাকী মিয়া ছিলেন একজন মানবিক মানুষ। মানুষের সমস্যায় তিনি দিন-রাত পাশে দাঁড়িয়েছেন। সেই আদর্শ থেকেই আজ আমি মাঠে নেমেছি। এই নির্বাচনে প্রতিটি ভোট শুধু ভোট নয়—এটি হবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে একটি শক্ত প্রতিবাদ।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। ফেসবুকে একাধিক ব্যক্তি সায়াদের ভূমিকার প্রশংসা করে পোস্ট দিয়েছেন। হাসান ফরাজী তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ছোট্ট সায়াদের মাঝে আমরা দেখি একটি আদর্শের উত্তরাধিকার, একটি সংগ্রামী পরিবারের গর্বিত ইতিহাস।
অন্যদিকে সৌরভ মিয়া ও নাইমুল কবির পনির লিখেছেন, আপনার একটি মূল্যবান ভোটই হবে একজন পিতা ও একটি পরিবারের মুক্তির পথ।
স্থানীয়দের মতে, বাবার অনুপস্থিতিতে সায়াদের এই সংগ্রাম শুধু একটি নির্বাচনী প্রচারণা নয়, বরং এটি মুকসুদপুর-কাশিয়ানীর মানুষের কাছে আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, আশরাফুল আলম শিমুল স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ২০০৯ সালে উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান, ২০১৪ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ২০২২ সালে মুকসুদপুর পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। এ পর্যন্ত তিনি যতগুলো নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, কোন নির্বাচনেই তিনি পরাজিত হননি। নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যদিয়েও তিনি প্রতিটি নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন।
শিমুলের পারিবারিক পরিচিতি ও তাঁর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ। তাঁর পিতা খায়রুল বাকী মিয়াও এলাকায় বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। পিতার উত্তরসূরি হিসেবে শিমুলও বর্তমানে এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয়।
আজকালের খবর/বিএস