কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পৃথক দুটি মানবপাচার মামলায় এক নারীসহ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে ভৈরব থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার পৃথক দুটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের নামাপাড়া এলাকার আসাদ মিয়ার স্ত্রী শিরিনা বেগম (৪৮) এবং পৌর শহরের কমলপুর এলাকার সাজিদ মিয়ার ছেলে মোস্তাকিম ওরফে বিজয় (২৬)।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে কুদ্দুস মিয়া নামের এক ব্যক্তি ৭ জনকে আসামি করে ভৈরব থানায় একটি মানবপাচার মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার এজাহার অনুযায়ী, আগস্ট মাসে কুদ্দুস মিয়ার ছেলে রনি মিয়াকে ইউরোপের দেশ ইতালিতে নেওয়ার কথা বলে ১৭ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় দালাল চক্রটি। পরে তাকে লিবিয়াতে নিয়ে আটকে রাখা হলেও আর ইতালিতে পাঠানো হয়নি। এই মামলার আসামি মোস্তাকিম বিজয়।
অন্যদিকে, উপজেলার ভবানীপুর এলাকার আলাল মিয়া নামের আরেক ভুক্তভোগী তাঁর ছেলে তরিকুল ইসলামকে লিবিয়া হয়ে ইতালি পাঠানোর জন্য দেড় বছর আগে শিরিনা বেগমসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের ৯ লক্ষ টাকা দেন। পরবর্তীতে তরিকুলকে লিবিয়া নিয়ে গেলেও আর ইতালিতে পাঠানো হয়নি। এ ঘটনায় আলাল মিয়া বাদী হয়ে শিরিনা বেগমসহ ৪ জনকে আসামি করে ভৈরব থানায় অপর একটি মামলা দায়ের করেন।
থানা হেফাজতে থাকা অবস্থায় গ্রেপ্তারকৃত শিরিনা বেগম ও মোস্তাকিম বিজয় নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বলেন, "ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সাথে আমাদের আপোষ-মীমাংসা হয়ে গেছে। কিন্তু মামলাটি আদালত থেকে প্রত্যাহার বা নিষ্পত্তি না করার কারণে পুলিশ আমাদের গ্রেপ্তার করেছে।" এ বিষয়ে ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নূরুল হুদা জানান, "আদালতের নির্দেশে ভৈরব থানায় মামলা দুটি নথিভুক্ত করা হয়েছিল। পুলিশ তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর অভিযানে নামে। আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।
বুধবার দিবাগত রাত ৩টায় গজারিয়া থেকে শিরিনা বেগমকে এবং রাত ৪টায় কমলপুর থেকে বিজয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা দুজনেই এজাহারভুক্ত আসামি।
আজ দুপুরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।"
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব