রংপুর মেডিকেল কলেজকে (রমেক) একটি আধুনিক, যুগোপযোগী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করার প্রস্তাব অনুমোদনের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো বাস্তবায়ন শুরু হয়নি। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এ সংক্রান্ত ফাইলটি লাল ফিতায়বন্দি আছে। অথচ রংপুর মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলে চিকিৎসা শাস্ত্র ও সেবার নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে।
পতিত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দেশে ৩টি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। শুধুমাত্র রংপুরে যোগ্য নেতৃত্বের অভাব আর বৈষম্যনীতির কারণে অনুমোদিত মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেবল রংপুরবাসীকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তবে বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি সরকারের কাছে রংপুর মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল। তারা মনে করছেন, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
রংপুরের সুশীল সমাজ স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে দীর্ঘদিন থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২৪ এপ্রিল রংপুর মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনের চিঠি পায় রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পৌঁছায়। কিন্তু এরপর অজ্ঞাত কারণে থমকে যায় বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নের কাজ।
জানা গেছে, রংপুর মেডিকেল কলেজ ১৯৭০ এ প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি রংপুর নগরীর ধাপ এলাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের বিপরীতে অবস্থিত। মূল ক্যাম্পাস এবং হাসপাতালের আয়তন প্রায় ৬৫ একর। আধুনিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আমলে ১৯৬৬ সালে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
১৯৭১ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন প্রথম ব্যাচে শিক্ষার্থী ছিল ৫০ জন। ১৯৭৬ সালের ১৯ মার্চ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। বর্তমানে ১ হাজার শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন ২ হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। মেডিকেল কলেজে ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা সিট বরাদ্দ রয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, রংপুর মেডিকেল কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করা হলে পিএসসিসহ স্বাস্থ্য বিষয়ক অন্যান্য ডিগ্রির সার্টিফিকেট এখান থেকেই পাওয়া যাবে। এ ছাড়া, রংপুর বিভাগের মানুষেরা স্বল্প মূল্যে ডিগ্রিধারী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছ থেকে স্বাস্থ্যসেবা পাবেন। দেশের পাশাপাশি বিদেশি শিক্ষার্থীরা এখানে শিক্ষা ও গবেষণা করতে পারবেন।
সেই সঙ্গে রংপুর বিভাগের মানুষের রোগব্যাধিসহ নানা বিষয়ে গবেষণা করা সম্ভব হবে। দেশের পাশাপাশি বিদেশি শিক্ষার্থীরাও এখানে গবেষণা করতে পারবেন। স্বল্পমূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে স্বাস্থ্যসেবা পাবেন রোগীরা। এতে রংপুর বিভাগের স্বাস্থ্য খাতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হবে।
উন্নয়নকর্মী এস এম পিয়াল বলেন, রংপুর বিভাগীয় নগরী। এখান জেলা শহরের বাইরেও অন্যান্য জেলা ও উপজেলা থেকে প্রতিদিন হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন কারণে রংপুরের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশি। এখানে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হলে রংপুর অনন্য উচ্চতায় যাবে। এই বিভাগের মানুষের মেডিকেল শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে।
শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার অনেক উন্নয়নমূলকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে। আমরা মনে করি, রংপুরের প্রতি সুনজর দেয়া দরকার। সরকারের কাছে এই অঞ্চলের মানুষের অনেক বেশি প্রত্যাশা। এখন যদি বর্তমান সরকার রংপুরের প্রতি সুনজর দেয় তাহলে উন্নয়ন বৈষম্য দূর করা সম্ভব হবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন রংপুর জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, গত সরকারের আমলে স্থানীয় মন্ত্রী-এমপিরা উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। শুধু ফিতা কাটার মধ্যে তাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ ছিল। বর্তমান বিএনপি সরকার সময়ে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন যেন আর ফাইলবন্দি হয়ে না থাকে, সেটা আমরা চাই।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব