মঙ্গলবার ১২ মে ২০২৬
মার্কিন হামলা থেকে রক্ষায় ‘ইরানি যুদ্ধবিমানকে পার্কিংয়ের অনুমতি দিয়েছিল পাকিস্তান’
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৩:০৪ পিএম   (ভিজিট : ৪)
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতার দায়িত্ব পালন করা পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলা থেকে দূরে রাখতে ইরানের একাধিক যুদ্ধবিমানকে তাদের নুর খান বিমানবন্দর ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল বলে একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেছে মার্কিন এক গণমাধ্যম।

তেহরান তাদের কিছু বেসামরিক বিমান প্রতিবেশী আফগানিস্তানেও পার্কিও করেছিল, তবে তার মধ্যে কোনো সামরিক বিমান ছিল কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি, সূত্রের বরাত দিয়ে এমনটিই বলছে সিবিএস নিউজ।

একাধিক সূত্র মার্কিন এ সংবাদমাধ্যমটিকে জানায়, তেহরান তাদের বেশকিছু মূল্যবান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রাওয়ালপিন্ডির খানিকটা বাইরে অবস্থিত পাকিস্তান বিমান বাহিনীর নুর খান ঘাঁটিতে সরিয়ে নেয়।

রাজধানী ইসলামাবাদের খুবই কাছে অবস্থিত কৌশলগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এ ঘাঁটিটি এমন এক সময়ে ইরানের সেনা ও বিমান বাহিনীর সম্পদকে সুরক্ষা দিচ্ছিল, যখন পাকিস্তানি কর্মকর্তারা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধবিরতির চেষ্টা চালাচ্ছিল।

ইরান তাদের যেসম সামরিক সরঞ্জাম পাকিস্তানে পাঠিয়েছিল তার মধ্যে ইরানের বিমান বাহিনীর একটি আরসি-১৩০ বিমানও ছিল। এটি লকহিডের বানানো কৌশলগত পরিবহন বিমান সি-১৩০ হারকিউলিসের একটি সংস্করণ যা নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত হয়, বলা হয়েছে সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে।

বিষয়টির সম্বন্ধে অবগত মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এপ্রিলের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পর ইরান ওই আরসি-১৩০ বিমানসহ একাধিক বিমান পাকিস্তানের নুর খান ঘাঁটিতে পাঠায়।

সেসময় ইরানের কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে উত্তেজনা কমানোর পক্ষে অবস্থান নিলেও সম্ভাব্য মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা থেকে বাকি সামরিক ও বিমান বাহিনীর সম্পদকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টার অংশ হিসেবেই তেহরান আফগানিস্তানে বেসামরিক ও পাকিস্তানে সামরিক সম্পদ পাঠিয়েছিল বলে ধারণা ওই কর্মকর্তাদের।

এনডিটিভি জানিয়েছে, পাকিস্তান ইরানি যুদ্ধবিমানকে পার্কিংয়ের অনুমতি দিয়েছিল—এ খবর ওয়াশিংটনে ব্যাপক শোরগোল সৃষ্টি করেছে। অনেক মার্কিন আইনপ্রণেতাই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতার ভূমিকা নেওয়া ইসলামাবাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

রিপাবলিকান সেনেটর ‘যুদ্ধবাজ’ খ্যাত লিন্ডসে গ্রাহাম ইরান সঙ্কটে পাকিস্তানের কূটনৈতিক ভূমিকা পুনর্মূল্যায়ন করারও দাবি জানিয়েছেন।

তবে পাকিস্তানে এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সিবিএসের এ খবরকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নুর খান ঘাঁটি জনবহুল এক এলাকায় অবস্থিত। সেখানে ইরানি বিমান নামলে তা লুকিয়ে রাখার ‍সুযোগ নেই।

“নুর খান ঘাঁটিটি শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত, যদি অনেকগুলো বিমানের একটি বহর সেখানে পার্ক করা থাকতো, তাকে কোনোভাবেই লোকচক্ষুর আড়ালে রাখা যেত না,” বলেছেন তিনি।

আফগানিস্তান বলছে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ চলার সময় ইরানের মাহান এয়ারের একটি বেসরকারি বিমান কিছু সময় কাবুল বিমানবন্দরে পার্ক করা ছিল।

আফগান বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা বলেছেন, যুদ্ধের কিছুক্ষণ আগে ইরানি ওই বেসামরিক বিমানটি কাবুলে অবতরণ করেছিল। পরে যুদ্ধের সময় ইরানি আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিমানটি বেশ কিছু সময় পার্কিং করা অবস্থায় ছিল।

তালেবান নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে উত্তেজনার সুবাধে মার্চে পাকিস্তান কাবুলে হামলা চালালে নিরাপত্তার কারণে ওই বিমানটিকে পরে ইরান সীমান্তবর্তী হেরান বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়।

যুদ্ধের সময় ইরানের কেবল মাহান এয়ারের ওই বিমানটিই আফগানিস্তানে ছিল, বলেছেন আফগান কর্মকর্তারা।

তালেবানের প্রধান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ আফগানিস্তানে ইরানি বিমানের উপস্থিতির কথা উড়িয়ে দিয়ে সিবিএসকে বলেছেন, “না, এ খবর সত্যি নয় এবং ইরানের এমন কিছু করার দরকারও নেই।”

আজকালের খবর/ এমকে









Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor@gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor@gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft