পেশাদার সাংবাদিকদের সঙ্গে সাতক্ষীরার নবাগত জেলা প্রশাসক মিজ কাওসার আজিজের অসৌজন্যমূলক আচরণে হতবাক হয়েছেন দেশের মূলধারার প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় সাতক্ষীরায় কর্মরত সাংবাদিকরা।
তারা বিস্ময় প্রকাশ করে জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসকের মতো দয়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরণের আচরণ রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর নয়।
জেলা তথ্য অফিস সূত্রে জানা যায়, বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি সরকারের যুগান্তকারী উদ্যোগ বাস্তবায়নের আওতায় প্রেস ব্রিফিংয়ে অংশ নিতে বুধবার সাড়ে এগারোটার দিকে কমপক্ষে ৬০ জন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে যান। এসময় তারা হলূদ ও ভূইফোড় অপসাংবাদিকদের চেয়ার দখল করে বসে থাকতে দেখেন। ঠিক এমতাবস্থায় নবাগত জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ সম্মেলন কক্ষে প্রবেশ করেন।
সিনিয়র মূলধারার সাংবাদিকদের দাড়িয়ে রেখে তিনি ব্রিফিং শুরু করেন। এসময় দাড়িয়ে থাকা সিনিয়র সাংবাদিকরা চেয়ার না পাওয়ার কথা জেলা প্রশাসককে জানালে তিনি বলেন, আগে থেকে না আসলে চেয়ার পাওয়া যাবেনা। আগে যারা আসবে,তারা আগে বসবে। তার এ কথায় হতবাক হয়ে যান সাংবাদিকরা। সিনিয়র সাংবাদিকরা এসময় পরবর্তী সময়ে ব্রিফিংয়ের আবেদন জানালে তিনি রীতিমতো ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, ব্রিফিং একবারই হবে। বসার জায়গা না পেয়ে অগত্য প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক কল্যাণ ব্যানার্জি, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি ও আজকের পত্রিকার সাতক্ষীরা প্রতিনিধি আবুল কাশেম,সময় টিভির সাতক্ষীরা প্রতিনিধি মমতাজ আহমেদ ব্যাপী, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাসস ও বাংলাভিশনের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান আসাদ, এটিএন বাংলার সাতক্ষীরা প্রতিনিধি এম কামরুজ্জামান, আরটিভির সাতক্ষীরা প্রতিনিধি রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী, দৈনিক দক্ষিণের মশালের সম্পাদক আশেক-ই এলাহী, যমুনা টিভির সাতক্ষীরা প্রতিনিধি আকরামুল ইসলাম, ডিবিসি নিউজের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি এম বেলাল হোছাইন, এখন টিভির সাতক্ষীরা প্রতিনিধি আহসানুর রহমান রাজিব, কালবেলা ও স্টার নিউজের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি গাজী ফরহাদ,৭১টিভির সাতক্ষীরা প্রতিনিধি বরুণ ব্যানার্জি, দৈনিক আজকালের খবরের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি এস এম তৌহিদুজ্জামান, স্বদেশ প্রতিদিনের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান সোহাগ, ডেইলি ক্যাম্পাসের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি হোসেন আলী, ভয়েস অব টাইগারের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি মিলন রুদ্র, ঢাকা পোস্টের ইব্রাহিম হোসেনসহ সাতক্ষীরায় কর্মরত ৬০ জন সাংবাদিক সভাকক্ষ ত্যাগ করার উদ্যোগ নিলে জেলা প্রশাসক বলেন, চলে যাওয়া সাংবাদিকরা সরকার বিরোধী লোক।
এবিষয়ে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের বিস্তারিত জানতে খুবই আগ্রহ নিয়ে আমরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গিয়েছিলাম। কিন্তু বসার জায়গা না পাওয়া ও জেলা প্রশাসকের অসৌজন্যমুলক আচরণে আমাদের চলে আসা ছাড়া পথ ছিলনা।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে আমরা মূলধারার সাংবাদিকরা সরকারের উন্নয়নমুলক কর্মকাণ্ডের সকল খবর প্রচার করে আসছি।
তিনি আরও বলেন, গত ১ এপ্রিল বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের শ্যামনগর সফরের নিউজ মূলধারার সাংবাদিকরা সর্বোচ্চ কাভারেজ দেন। অথচ আজকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সামনের সারিতে উপস্থিত সাংবাদিকদের সেদিন দেখা যায়নি। সুতরাং জেলা প্রশাসকের এ মন্তব্য সমর্থনযোগ্য নয়।
অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ অস্বীকার করে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ সাংবাদিকদের বলেন, সাংবাদিকরা নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১৫ মিনিট পরে আসায় তারা আসন পাননি।
এসময় আপনিও তো ৩০ মিনিট পরে এসেছেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি জানতাম অনুষ্ঠান সাড়ে বারোটায়, তথ্য অফিসার আমাকে সেভাবেই জানিয়েছে। তবে ব্রিফিং থেকে চলে আসা সাংবাদিকরা সরকার বিরোধী লোক-এমন কথা বলেননি বলে জানান জেলা প্রশাসক।
আজকালের খবর/বিএস