পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে প্রাথমিক প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ২২ নং মধ্য গুলি আউলিয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এই অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।
জানা যায়, গত ৯ মে থেকে উপজেলার ১৪৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা শুরু হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এই পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হওয়ার কথা থাকলেও মধ্য গুলি আউলিয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। প্রধান শিক্ষক আবদুর রহমানের নির্দেশে সহকারী শিক্ষিকা সোনিয়া ও আরিফা বেগম প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৭০ টাকা করে ফি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কারিমা, হাফসা ও আরমান জানায়, পরীক্ষা শুরুর দিন থেকেই সোনিয়া ও আরিফা ম্যাডাম তাদের কাছ থেকে ৫০ ও ৭০ টাকা করে পরীক্ষার ফি নিয়েছেন।
চাম্পা বেগম ও রুনু বেগম নামের দুই অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, "আমার মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে গিয়ে বলে, ফি না দিলে ম্যাডাম পরীক্ষা দিতে দেবে না। সরকার সব ফ্রি করেছে জানলেও স্কুল থেকে টাকা দিতে চাপ দেওয়া হয়। নিরুপায় হয়ে আমরা স্কুলে এসে টাকা দিয়েছি।" তারা আরও দাবি করেন, উক্ত প্রধান শিক্ষক এর আগেও বিভিন্ন অজুহাতে টাকা নিয়েছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী শিক্ষিকা সোনিয়া ও আরিফা বেগম বলেন, "শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমরা কোনো টাকা নেইনি।"
প্রধান শিক্ষক আবদুর রহমান বলেন, "পরীক্ষা বাবদ কোনো টাকা নেওয়া হয়নি। কেউ টাকা নিয়ে থাকলে আমার জানা নেই। বিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট করার জন্য মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে।"
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনিচুর রহমান জানান, সরকারি নিয়ম অনুসারে কোনো টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা ব্যবস্থা নেবেন।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিটলারুজ্জামান বলেন, "পরীক্ষার ফি বাবদ কোনো টাকা নেওয়ার কথা না। ২২ নং মধ্য গুলি আউলিয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যদি এমনটা হয়ে থাকে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব