মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের শেষদিনে বল হাতে আগুন ঝড়িয়েছেন গতিময় পেসার নাহিদ রানা। শেষ বিকেলে তার একেকটি আগুনের গোলায় নাস্তানাবুদ হয়েছেন পাকিস্তানের ব্যাটাররা। আর তাতে ২৬৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা সফরকারীরা গুটিয়ে যায় মাত্র ১৬৩ রানে। বাংলাদেশ জয় পায় ১০৪ রানের বড় ব্যবধানে।
চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশের দেয়া ২৬৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে একটা পর্যায়ে ৫ উইকেট হারিয়ে দেড়শ রান ছাড়ায় পাকিস্তান। তবে নাহিদ রানার একটি স্পেলেই সবকিছু এলোমেলো করে দেয়। ১৫২ থেকে ১৬৩;১১ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারায় পাকিস্তান। এর মধ্যে চারটিই নাহিদ রানার। তিনি শিকার করেন মোহাম্মদ রিজওয়ান, সৌদ শাকিল ও নোমান আলির উইকেট। মাঝে হাসান আলির উইকেটটি নেন তাইজুল ইসলাম। ৯ উইকেট হারানোর দিশেহারা হয়ে পড়া পাকিস্তানের শেষ উইকেটটিও তুলে নেন নাহিদ। তাতে ৫ উইকেটও শিকার করা হয় তার।
ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জবাবে প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের ইনিংস থামে ৩৮৬ রানে। প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পাওয়া বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ২৪০ রান করার পর ইনিংস ঘোষণা করে। তাতে ২৬৮ রানের লক্ষ্য পায় সফরকারীরা।
আগের দিনের ৩ উইকেটে ১৫২ রান নিয়ে পঞ্চম দিনে মাঠে নামা বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে অবশ্য খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। ৫৮ রানে অপরাজিত থাকা শান্ত ৮৭ রান করে আউট হয়েছেন। মুশফিকুর রহিম ২২ রানের বেশি করতে পারেননি। লিটন দাসও মাত্র ১১ রান করে আউট হয়েছেন। মেহেদী হাসান মিরাজের ২৭ বলে ২৪ রানের ইনিংস কিছুটা মান রক্ষা করে। নাহিদ রানাকে ব্যাটিংয়ে না নামিয়েই এদিন ইনিংস ঘোষণা করে টাইগাররা।
চ্যালেঞ্জিং এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৬৮ রানের মধ্যেই টপ-অর্ডারের তিন ব্যাটার ইমাম-উল-হক, আজান আওয়াইস ও অধিনায়ক মাসুদকে হারায় পাকিস্তান। তবে চতুর্থ উইকেটে সালমান আগাকে নিয়ে ৫১ রানের জুটি গড়ে ভয় ধরান দুর্দান্ত ব্যাট করতে থাকা আব্দুল্লাহ ফজল। শেষ পর্যন্ত ১১৯ রানে ফজল (৬৬) ও ১২১ রানে সালমানকে (২৬) ফিরিয়ে বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তি ফেরান তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ। এরপরই জুটি বাঁধেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সৌদ শাকিল। শেষ পর্যন্ত নাহিদের হাতে পতন হয় তাদের।
আজকালের খবর/বিএস