বটতলা’র নন্দিত নাট্য প্রযোজনা ‘খনা’র ১০০তম মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১১ এপ্রিল, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে। নাটকটির নির্দেশক মোহাম্মদ আলী হায়দার।
‘খনা’ এমন এক আখ্যানের মঞ্চকৃতি যা নারী ও শ্রেণির প্রশ্নকে সামনে আনে। গল্পটা পনেরশ বছর আগের হলেও আজও সমান প্রাসঙ্গিক। প্রজন্মান্তরে চলা যে কৃষিজ্ঞান ও প্রজ্ঞা খনার নামে বহমান তার ঠিকুজি কুষ্ঠির খোঁজে নাটক ‘খনা’ এগিয়ে চলে চাষিদের বেগুন ক্ষেত, কলা বাগান মাড়িয়ে ছোট্ট উঠানে। আর খনা তার জীবনের নানা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে এক অন্য সত্যের মুখে দাঁড় করান দর্শকদের। নারী প্রশ্নে, সমতার প্রশ্নে, শ্রেণির প্রশ্নে ক্ষমতাকাঠামোর নানান সমীকরণের নিবিড় ও বহুমাত্রিক পাঠের প্রস্তাবনা নিয়ে ‘খনা’ এমনই মঞ্চকৃতি যা এই সময়ের কথাই বলে দূর অতীতের ইশারাসমেত।
২০১০-এর ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শততম বর্ষপূর্তিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সহস্র সাধারণের সামনে মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে ‘খনা’ নাটকের যাত্রা শুরু করেছিল। দীর্ঘ ষোল বছরে দেশে-বিদেশে দর্শক-নন্দিত হয়েছে এই নাটক; আলোচিত থেকেছে নাট্যাঙ্গন ও বিদ্যায়তনিক পরিমণ্ডলে; আর বটতলার কাছে হয়ে উঠেছে প্রাণ-স্পন্দনের সমার্থক এক সত্তা।
নির্দেশক মোহাম্মদ আলী হায়দার বলেন, ‘‘খনা’র শততম মঞ্চায়নের প্রহরে অতীত আর বর্তমানকে এক সুতোয় গেঁথে নেয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারেই দানা বাঁধছি আবার। আগামী ১০ এবং ১১ এপ্রিল আয়োজিত হতে যাচ্ছে দুই দিনব্যাপী ‘খনার ১০০ তম মঞ্চায়ন উৎসব’। লীলাবতীর প্রকৃতিজ জ্ঞানকাণ্ডের সূত্র ধরে আমরা আসর সাজিয়েছি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা নিয়ে।’’
১০ এপ্রিল সকালে শিল্পী ও অ্যাক্টিভিস্ট অরূপ রাহীর পরিচালনায় ‘উদয়ভানু সঙ্গ’ অধিবেশনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর থাকবে আমন্ত্রিত শিল্পীদের যন্ত্রসংগীতের (সরোদ, বেহালা) পরিবেশনা ও গান। সকালের অধিবেশনে থাকছে শিশুদের জন্য বিশেষ আয়োজন। ব্রতচারী নৃত্য, ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, গান, আবৃত্তি পরিবেশনার পাশাপাশি থাকবে মৃৎশিল্পী খোকন কারিগরের পরিচালনায় ‘মাটির পাঠশালা’ এবং চিত্রশিল্পী মনজুর রশীদের পরিচালনায় ‘আঁকিবুকিতে বসন্ত’ শীর্ষক আর্ট ক্যাম্প। মেলা প্রাঙ্গণে শিশুদের বাড়তি আনন্দ যোগান দেবে কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার।
দিনের দ্বিতীয়ভাগে ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা প্রদর্শন করবেন টাঙ্গাইলে মরহুম কুদরত আলী লাঠি খেলা দল এবং ঐতিহ্যবাহী ধুয়া গান পরিবেশন করবেন কুমার গাতা ওয়াসিম বয়াতি’র দল ও মাহমুদ পুর আজিজুল বয়াতির দল। এই জনপদের লোকজ ঐতিহ্যের সাথে শুধু পরিচয়ই নয় দর্শনার্থীরা বরং বিষমুক্ত শাকসবজি ও দেশীয় খাবারের স্বাদও পরখ করতে পারবেন প্রাকৃত সমাজ-এর ব্যবস্থাপনায় আয়োজিতব্য ‘দেশীয় পণ্যের মেলা’য়। সেখানে কৃষিপণ্যের সাথে থাকবে কারুপণ্য, পোশাক এবং বইপত্রের পসরা!
সন্ধ্যায় আরও থাকবে সমগীত, চারকোল, মাভৈ, কুয়াশা মূর্খ, গীতলবঙ্গ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদসহ আমন্ত্রিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিল্পীবৃন্দ। মেলা প্রাঙ্গণে থাকবে দর্শকের ক্যামেরায় খনা শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী। প্রথম দিন সন্ধ্যায় থাকবে আমন্ত্রিত গবেষক , শিক্ষক, শিল্পী ও সমালোচকদের অংশগ্রহণে ‘খনা’র আলাপ। প্রথম দিনের শেষ আয়োজন হিসেবে থাকবে সৌম্য সরকার ও ব্রাত্য আমিন নির্মিত বিশেষ তথ্যচিত্র।
১১ এপ্রিল উৎসবের দ্বিতীয় দিন যথারীতি ‘দেশীয় পণ্যের মেলা’ চলমান থাকবে। সন্ধ্যায় প্রদর্শিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত ‘খনা’র শততম মঞ্চায়ন।
এই সাংস্কৃতিক উৎসবে উপস্থিত থাকছেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মোঃ জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
আজকালের খবর/আতে