প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ৩:৫৩ পিএম (ভিজিট : )
ঈদের আনন্দের রেশ তখনও কাটেনি ঠিক সেই সময়, ঈদের দ্বিতীয় দিন ওটিটি বঙ্গ-এ মুক্তি পেল ব্যতিক্রমধর্মী চলচ্চিত্র “আলী”। মুক্তির পর থেকেই দর্শকের হৃদয়ে তৈরি করেছে এক অদ্ভুত আত্মতৃপ্তি যেন দীর্ঘদিন পর একটি গল্প এসে মানুষের ভেতরের অনুভূতিগুলোকে নাড়া দিয়েছে নিঃশব্দে।
এই সিনেমা শুধু একটি গল্প নয় এটি জীবনের প্রতিচ্ছবি। আর সেই জীবনের ভেতরেই এক গভীর মানবিক চরিত্র হয়ে উঠেছে সাজু মামা যার দায়িত্ব, ভুল, ভালোবাসা আর অনুশোচনা মিলেই গড়ে উঠেছে এক হৃদয়স্পর্শী অধ্যায়।
ঢাকার ব্যস্ত শহরে এক সাধারণ মানুষ সাজু। একটি গার্মেন্টসে চাকরি করে কোনো রকমে সংসার চালান। জীবনের হিসাব-নিকাশে তিনি খুবই সাধারণ কিন্তু হৃদয়ের জায়গায় তিনি অসাধারণ। নিজের পরিবারের আড়ালে, নিঃশব্দে খোঁজ রাখেন পাহাড়ে থাকা তার ভাগ্না-ভাগ্নিদের। দূরত্ব তাকে থামাতে পারেনি দায়িত্ববোধই ছিল তার প্রকৃত পরিচয়।
এই মানুষটিই একদিন সাহস করে সিদ্ধান্ত নেন ভাগ্নি রশ্নিকে ঢাকায় এনে পড়াশোনার সুযোগ করে দেবেন। স্ত্রীর বাধা, সংসারের চাপ সবকিছুকে উপেক্ষা করেও তিনি এগিয়ে যান। কারণ তিনি জানতেন, একটি মেয়ের স্বপ্ন বাঁচানো মানেই একটি ভবিষ্যৎকে বাঁচানো।
অচেনা শহরে হারিয়ে যাওয়া সেই দুই প্রাণের সঙ্গে সঙ্গেই যেন ভেঙে পড়ে সাজু মামার দায়িত্বের দেয়াল।
এরপর যে ঘটনা ঘটে, তা শুধু একটি পরিবারের নয় একটি সমাজের প্রতিচ্ছবি।
আলী যখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের পথে হাঁটে, তখন সাজু মামা দাঁড়িয়ে পড়েন দ্বিধার মুখে। সংসারের চাপ, বিশেষ করে স্ত্রীর প্ররোচনায় তিনি এক সময় আলীকে অস্বীকার করেন চিনেন না বলে দূরে সরে যান।
আর সেই বাস্তবতাকে পর্দায় জীবন্ত করে তুলেছেন শওকত সজল। তার অভিনয়ে সাজু মামা হয়ে উঠেছে এক জীবন্ত মানুষ—যার চোখে অপরাধবোধ, যার নীরবতায় ভালোবাসা, যার দ্বিধায় লুকিয়ে আছে এক অদ্ভুত সত্য।
পরিচালক বিপ্লব হায়দার-এর ব্যতিক্রমধর্মী নির্মাণে “আলী” শুধু একটি সিনেমা নয়—এটি এক আবেগের যাত্রা। আর সেই যাত্রায় সাজু মামা এক গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী—যিনি আমাদের শেখান, একটি ছোট ভুল কখনো কখনো জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হয়ে ওঠে।
আজকালের খবর/আতে