
রাষ্ট্রীয় শোকবার্তা ছাড়াই বাংলাদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এর গায়িকা একুশে পদকপ্রাপ্ত মাহবুবা রহমান (৯২) চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন। শুক্রবার বিকাল পৌনে চারটায় মগবাজার ওয়্যারলেস মোড় মসজিদে বাদ জুমা জানাযা শেষে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাযায় সুর ও সঙ্গীত পরিচালক ফোয়াদ নাসের বাবু ছাড়া আর তেমন কাউকে উপস্থিত দেখা যায়নি। এরআগে বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
একুশে পদকপ্রাপ্ত কণ্ঠশিল্পী মাহবুবা রহমান পঞ্চাশ ও সত্তর দশকের শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম। তিনি মূলত পল্লিগীতি ও আধুনিক গানের শিল্পী। ১৯৪৭ সালে অল ইন্ডিয়া রেডিওর ঢাকা কেন্দ্র থেকে সর্বপ্রথম তার গান প্রচার হয়।
১৯৫৮ সালে খ্যাতিমান চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব, অভিনেতা ও সঙ্গীতজ্ঞ খান আতাউর রহমানের সঙ্গে তার পরিচয় শেষে পরিণয় ঘটে।
এদিকে, রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক পেলেও সরকারের তরফ থেকে কোনো ধরনের শোকবার্তার খবর পাওয়া যায়নি। তবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন এই প্রতিবেদকের শুক্রবার বিকাল সাড়ে তিনটায় মৃত্যুর খবর জেনে শোক প্রস্তাব তাদের ওয়েবসাইটে দেওয়ার নির্দেশনা দেন মমে তিনি নিজেই জানিয়েছেন। অপরদিকে মাহবুবা রহমানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বিখ্যাত অভিনেত্রী শবনম, পরিচালক মতিন রহমান, প্রদর্শক সমিতির উপদেষ্টা মিয়া আলাউদ্দিন, সুর ও সঙ্গীত পরিচালক শেখ সাদী খান, পরিচালক এফআই মানিক।
এ দেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ ছবিতে সমর দাসের সুরে মাহবুবা রহমান গেয়েছিলেন ‘মনের বনে দোলা লাগে’ গানটি।
তার গাওয়া উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে আরও রয়েছে- খান আতাউর রহমানের সুরে জহির রায়হানের ‘কখনো আসেনি’ ছবির ‘নিরালা রাতের প্রথম প্রহরে’, ‘তোমাকে ভালোবেসে অবশেষে কী পেলাম’, ‘মুখ ও মুখোশ’ ছবির পর ‘জাগো হুয়া সাভেরা’, ‘আসিয়া’, ‘এ দেশ তোমার আমার’, ‘যে নদী মরুপথে’, ‘কখনো আসেনি’, ‘সূর্যস্নান’, ‘সোনার কাজল’, ‘রাজা সন্ত্রাসী’, ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’, ‘সাত ভাই চম্পা’ ছবিতে গেয়েছিলেন মাহবুবা রহমান।
আজকালের খবর/আতে