
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরে অবৈধভাবে বসবাস ও বিস্তারের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন ও যৌথ বাহিনী। স্থানীয়দের বাড়িতে ভাড়া নিয়ে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ৬২২ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে নিজ নিজ নির্ধারিত ক্যাম্পে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের বাসা ভাড়া দেওয়ার দায়ে ১৫ জন বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে মামলা, কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ভোর আনুমানিক ৬টা থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনজু বিন আফনানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, এপিবিএন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন।
জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই টার্গেটেড অভিযানে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে ক্যাম্পের বাইরে অবস্থানরত রোহিঙ্গা পরিবারগুলো শনাক্ত করে আটক করেন এবং পরবর্তীতে তাদের এপিবিএন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। আটক ৬২২ জনের মধ্যে পুরুষ ২১১ জন, নারী ১৯৬ জন এবং শিশু ২০০ জন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটক সবার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অভিযানকালে অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের কাছে ঘর ভাড়া দিয়ে আইন লঙ্ঘনের দায়ে ১৫ জন বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে পৃথক ১৫টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে ১১ জনের কাছ থেকে মোট ১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয় এবং ৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।
কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, উখিয়ার পালংখালীর নূর আহমেদের ছেলে আব্দুর রশিদ রহমান, পালংখালী উত্তর রহমতের বিল এলাকার এমদাদুল হকের ছেলে মো. আব্দুল রশিদ, বালুখালী পুটিবুনিয়া এলাকার মো. হোসেনের ছেলে মো. আজিজুর রহমান এবং টেকনাফের হ্নীলা এলাকার মো. সেলিমের ছেলে মো. আশিক।
এছাড়াও অভিযানে উখিয়ার ক্যাম্প-১১-এর ব্লক-ডি/১ এলাকার মো. ইউনুসের ছেলে মো. মঞ্জুর আলমকে আনুমানিক ৪০ পোঁটলা গাঁজাসহ আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ২০ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। প্রশাসন জানিয়েছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক অবৈধ কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে মাদক ও অনুপ্রবেশ রোধে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
আজকালের খবর/এআরজে