নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার তিন বছর পেরিয়ে গেলেও জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় চালু হয়নি একমাত্র মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি। প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০ শয্যার এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি উদ্বোধনের অভাবে ধুলোবালি আর অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে আধুনিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় মা ও শিশুরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিন বছর আগে দ্রুতগতিতে কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শেষ হলেও রহস্যজনক কারণে ভবনটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে জরুরি চিকিৎসার জন্য এ অঞ্চলের গর্ভবতী নারী ও শিশুদের বাধ্য হয়ে জেলা সদর কিংবা দূরের বিভিন্ন হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে। এতে যেমন ভোগান্তি বাড়ছে, তেমনি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন দরিদ্র মানুষ।
ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগী সরুফা বেগমের স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে রোগীকে সিজার করানোর জন্য জামালপুর জেলা সদরে নিয়ে যেতে হচ্ছে। এই মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি চালু থাকলে আমাদের এই দূরত্বের ভোগান্তি পোহাতে হতো না। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও শয্যা ও ডাক্তার সংকটের কারণে ঠিকমতো সেবা পাওয়া যায় না।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ এ এম আবু তাহের বলেন, ‘যদিও এই কেন্দ্রটির প্রশাসনিক দায়িত্ব সরাসরি আমাদের নয়, তবে এটি চালু হলে এলাকার মা ও শিশুদের সেবার মান অনেক বৃদ্ধি পেত এবং উপজেলা হাসপাতালের ওপর চাপ কমত।’
যোগাযোগ করা হলে ইসলামপুর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুস্মিতা দত্ত বলেন, ‘আমাদের প্রশাসনিক প্রস্তুতি রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামও সরবরাহ করেছে এবং বর্তমানে একজন ভিজিটর সেখানে কর্মরত আছেন। ভবনটি মূলত আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। আশা করছি দ্রুতই এটি চালু হবে।’
এদিকে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদ বেষ্টিত দুর্গম এই উপজেলার বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে হাসপাতালটি চালুর দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, মা ও শিশুর চিকিৎসা বিলম্বিত হওয়া মানেই জীবনের ঝুঁকি। তাই সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত এই কেন্দ্রের চিকিৎসাসেবা চালু করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব