পটুয়াখালীর দুমকিতে একটি সন্দেহভাজন পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশুসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ৯টা থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। কুকুরটির এমন আকস্মিক আক্রমণে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হলে জরুরি বিভাগে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। তবে আহতদের মধ্যে অন্তত পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন— দুমকি উপজেলার আরাবী (৫), জিদান (৬) ও মুবিন (৮), বগা এলাকার মুরসালিন (৯), এবং জলিশা এলাকার তাইবা (৫) ও নিঝুম (১১)। সংশ্লিষ্টরা জানান, আহতদের মধ্যে সিংহভাগই শিশু।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকে একটি কালো-সাদা রঙের কুকুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ঘুরে আচমকা পথচারী ও শিশুদের ওপর হামলা চালাতে শুরু করে। কুকুরের কামড়ে মুহূর্তের মধ্যে বেশ কয়েকজন রক্তাক্ত হন। এই ঘটনার পর থেকে অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই সন্তানদের ঘরের বাইরে বের করতে ভয় পাচ্ছেন।
এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আশিক হাজরা বলেন, "বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। আমরা সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে খুব দ্রুত কুকুরটিকে শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।"
দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর শহীদুল ইসলাম শাহীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কুকুরের কামড়ে আহত ১০ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রাণিসম্পদ বিভাগকে দ্রুত কুকুরটিকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য অবহিত করা হয়েছে।"
এদিকে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কুকুরটি আটক না হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কুকুরটিকে আটক বা নিস্তেজ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব