উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত হয়েছে কুড়িগ্রামের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল। জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আকস্মিকভাবে ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নদী তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার মানুষ। আকস্মিক এই বন্যায় বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হু হু করে পানি বাড়তে থাকায় নিম্নাঞ্চলের অসংখ্য কাঁচা সড়ক ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে। অনেক ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় গৃহপালিত পশুপাখি ও ঘরের আসবাবপত্র নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন মানুষ।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের নামা কাচিচর এলাকার গৃহবধূ শাহিদা বেগম আর্তনাদ করে বলেন, “হঠাৎ করেই বন্যার পানি এসে বাড়িতে ঢুকে পড়েছে। এখনো রান্না করতে পারিনি। ঘরের জিনিসপত্র ওয়াপদা বাঁধে তুলতে ব্যস্ত আছি। ঘরের ভেতরে পানি থাকায় ছোট ছোট বাচ্চারা খাটের ওপর বসে আছে। এখনো তাদের নিরাপদ জায়গায় নিতে পারি নাই।”
একই এলাকার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম জানান, চারদিকে পানি থৈ থৈ করছে, ঘরের ভেতরেও পানি। বাধ্য হয়ে গরু-ছাগল নিয়ে ওয়াপদা বাঁধে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। আজকের মধ্যে পরিবার ও জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরাতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি।
এদিকে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, দুধকুমার নদের পানি আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে কিছুটা কমতে শুরু করলেও সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, নদের পানি এখনো বিপদসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। একই সঙ্গে ধরলা ও তিস্তা নদীর পানিও ধীরে ধীরে কমছে।
নদীর পানি কমতে শুরু করলেও দুর্ভোগ কমেনি স্থানীয়দের। দুর্গত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং পানিবন্দী মানুষদের উদ্ধারে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান বা কার্যকর তৎপরতা দেখা যায়নি। শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, “সকাল থেকে নদ-নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী আরও তিন দিন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছি।”
আগামী কয়েকদিন পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস থাকায় নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব