একসময় ট্রেনের বাঁশিতে মুখর থাকত প্ল্যাটফর্ম, যাত্রীদের পদচারণায় সরগরম থাকত আশপাশের দোকানপাট। কিন্তু এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সুনসান নীরবতা ভর করেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ইজ্জতপুর ও সাতখামাইর রেলস্টেশনে। লোকবল সংকটের অজুহাতে স্টেশন দুটি বন্ধ করে দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৫ থেকে ২০টি গ্রামের কয়েক লাখ মানুষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৬৭ সালে চালু হওয়া ইজ্জতপুর রেলস্টেশনে একসময় ‘অগ্নিবীণা’সহ বেশ কয়েকটি ট্রেন দিনে আটবার যাত্রাবিরতি দিত। শ্রীপুর ও গাজীপুর সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী এই স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন গড়ে দুই শতাধিক যাত্রী যাতায়াত করতেন। অন্যদিকে, উপজেলার অন্যতম বাণিজ্যকেন্দ্র বরমী, লোহাই ও টেংরা বাজারের ব্যবসায়ীরা পণ্য পরিবহনে সাতখামাইর স্টেশনের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। বর্তমানে স্টেশন দুটি বন্ধ থাকায় যাতায়াতে সময় ও খরচ—দুটোই বেড়েছে কয়েক গুণ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ইজ্জতপুর ও সাতখামাইর স্টেশনের সিগন্যাল ঘর, স্টেশন মাস্টারের কক্ষ ও অপেক্ষাগার এখন জরাজীর্ণ। প্ল্যাটফর্মে জমে আছে ময়লার স্তূপ, কোথাও গবাদিপশু বেঁধে রাখা হয়েছে। ২০১৮ সালে সাতখামাইর স্টেশনটি একবার চালু করা হলেও এক বছরের মাথায় তা পুনরায় বন্ধ হয়ে যায়। স্টেশন দুটি চালুর দাবিতে স্থানীয়রা বারবার মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিলেও মেলেনি কোনো স্থায়ী সমাধান।
এ বিষয়ে গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি ইতিপূর্বে জাতীয় সংসদে স্টেশন দুটি চালুর জোরালো দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “শিল্পসমৃদ্ধ শ্রীপুরে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করতে স্টেশন দুটি দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, স্থানীয়রা শিগগিরই এর সুফল পাবেন।”
শ্রীপুর স্টেশনের স্টেশনমাস্টার সাইদুর রহমান বলেন, “স্টেশন দুটি চালু হলে শুধু যাত্রীদের দুর্ভোগই কমবে না, ট্রেন চলাচলেও অনেক সুবিধা হবে।”
রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে স্টেশন মাস্টার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বন্ধ থাকা স্টেশনগুলো পুনরায় সচল করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই দুই জনগুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা হোক।
আজকালের খবর/কাওছার