তেঁতুলিয়ায় স্বামীর মারপিটে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ঘাতক স্বামী মনির হোসেন (২৪) কে আটক করেছে পুলিশ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ৩ বছর পূর্বে পারিবারিক ভাবে আসামি মনির হোসেনের সঙ্গে আরজিনা খাতুনের (২৬) বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া মারপিট মনোমানিল্য লেগেই থাকতো। রবিবার (২ মে) দিবাগত রাতে মারপিটের এক পর্যায় আনুমানিক সাড়ে ১১টায় দিকে স্ত্রী আরজিনা অসুস্থ হয়ে পরে। তাৎক্ষণিক স্বামী মনির হোসেন শালবাহন বাজারের পল্লী চিকিৎসক আশরাফুল আলমকে সংবাদ দিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসে। পল্লী চিকিৎসক রোগীর অবস্থা আশংকাজনক দেখে দ্রুত পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরার্মশ দেন। তখন স্বামীর বাড়ির লোকজন মাইক্রোবাসে করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরার্মশ দেন। পরে পঞ্চগড় থেকে রংপুর মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার পথে ঠাকুরগাঁও বড় খোচাবাড়ী বাজারে পৌঁছালে ওই নারীর কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে পথিমধ্যে ঠাকুরগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। ক্লিনিকের চিকিৎসক রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের পিতা জালাল উদ্দীন বাদী হয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-০৩ তারিখ ০৪/০৫/২৬ ইং।
জালাল উদ্দীন জানান, আমার বিয়াই শাহাজালাল মিস্ত্রি মোবাইল ফোনে জানায় যে, আপনার মেয়ে আরজিনা খাতুন অসুস্থ তাহাকে চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর হাসাপাতালে মাইক্রোবাসে নিয়ে গিয়েছে। এরপর থেকে বাদী তার মেয়ে জামাতা মনির হোসেনের মোবাইলফোনে কল দিলে মোবাইল ফোন বন্ধ পান। পরবর্তীতে অনেক কষ্টে মাইক্রোবাস চালক ও ঘটনার সাক্ষী মো. মুসা মিয়ার মোবাইলফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান আপনার মেয়ে মারা গেছে। আমরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসছি। আমি এই হত্যাকান্ডের সঠিক বিচার চাই।
তেঁতুলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ লাইছুর রহমান বলেন, লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং নিহতের স্বামী মনির হোসেনকে আটক করা হয়েছে।