সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা আর কর্দমাক্ত রাস্তায় স্থবির হয়ে পড়েছে ঝালকাঠি পৌরসভার জনজীবন। ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটি আর ভাঙাচোরা সড়কের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শহরবাসী। বিশেষ করে মসজিদবাড়ি সড়ক, কাঠপট্টি সড়ক ও বিকনা সড়কসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এখন পানির নিচে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব সড়কে হাঁটু সমান পানি জমে যায়। ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা মিশ্রিত দুর্গন্ধযুক্ত পানির ওপর দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে পথচারী ও শিক্ষার্থীদের। রিকশা বা ইজিবাইক চালকরাও ঝুঁকি নিয়ে এসব রাস্তা দিয়ে চলাচল করছেন, ফলে মাঝেমধ্যেই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। জলাবদ্ধতার কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ক্রেতা সমাগম কমে গেছে।
পৌর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, জনদুর্ভোগ লাঘবে ইতিমধ্যে এসব রাস্তা ও ড্রেন সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় টেন্ডার (দরপত্র) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। কার্যাদেশও (ওয়ার্ক অর্ডার) প্রদান করেছে পৌরসভা। তবে অভিযোগ উঠেছে, কার্যাদেশ পাওয়ার পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো রহস্যজনক কারণে কাজ শুরু করছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "প্রতি বছর বৃষ্টির দিনে আমাদের একই দশা হয়। শুনলাম রাস্তার টেন্ডার হয়েছে, কিন্তু কাজের কোনো লক্ষণ নেই। ঠিকাদারদের গাফিলতির শাস্তি সাধারণ মানুষ কেন পাবে?"
এ ব্যাপারে ঝালকাঠি পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কাওছার হোসেন বলেন, "নিয়ম অনুযায়ী ঠিকাদারদের দ্রুত কাজ শুরুর জন্য বারবার তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তারা গড়িমসি করায় সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শুরু না করলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
বর্তমানে ঝালকাঠি পৌরসভার বাসিন্দাদের দাবি, টেন্ডারের মারপ্যাঁচে আটকে না থেকে জরুরি ভিত্তিতে রাস্তাগুলো সংস্কার করে স্বাভাবিক চলাচলের উপযোগী করা হোক। অন্যথায় বর্ষা মৌসুম পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হলে এই দুর্ভোগ অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছাবে।
আজকালের খবর/কাওছার