নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদী থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলনের মূলহোতা হিসেবে পরিচিত ‘গডফাদার’ জাহাঙ্গীর আলম খান (৫০) অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছে। রবিবার গভীর রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের নেতৃত্ব দিতেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ডিমলা উপজেলার অন্তত ১০টি পয়েন্টে উচ্চক্ষমতার বোমা মেশিন বসিয়ে নির্বিচারে পাথর উত্তোলন চলছিল। এর ফলে নদীর তলদেশে সৃষ্টি হয়েছে গভীর খাদ, যা ইতোমধ্যেই ভয়াবহ ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।
সম্প্রতি টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নে পাথর উত্তোলন ঘিরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা বাধা দিতে গেলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, ভাঙচুর করা হয় পুলিশের গাড়িও। এ ঘটনায় একাধিক মামলা হলেও এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন মূল অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বার্নির ঘাট, তেলীর বাজার, তিস্তা বাজারসহ অন্তত পাঁচটি এলাকায় এক মাস আগেও অর্ধশতাধিক বোমা মেশিন সক্রিয় ছিল। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে নদীর তলদেশ কেটে নেওয়ায় ভাঙনের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়েছে। গত বর্ষায় ডিমলার ১০ ইউনিয়নের মধ্যে অন্তত ৬টিতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়। খালিশা চাপানি ইউনিয়নের ছোটখাতা এলাকায় শত শত একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে নতুন চ্যানেল তৈরি হয়েছে। অসংখ্য পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
এ অবস্থায় হুমকির মুখে পড়েছে দেশের বৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ। পানি উন্নয়ন বোর্ড ইতোমধ্যে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে জরুরি তীররক্ষা কাজ করলেও সংশ্লিষ্টরা বলছেন—অবৈধ উত্তোলন বন্ধ না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, তিস্তা নদী দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। অবৈধ কার্যক্রম কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শওকত আলী সরকার জানান, গ্রেফতারকৃত জাহাঙ্গীর আলম খানের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনায় জড়িত বাকিদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
তিস্তা পাড়ের মানুষের দাবি—শুধু একজন নয়, পুরো সিন্ডিকেট ভেঙে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় নদী ও জনপদ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
আজকালের খবর/বিএস