নীলফামারীর ডিমলার ডালিয়া তিস্তা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রতিরক্ষা ডানতীর গাইডবাঁধ অবৈধ দখল ও অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণের কারণে চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বাঁধটি ভেঙে গেলে তিস্তার পানি উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে ভয়াবহ দুর্যোগের আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়,ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ থেকে পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালীগঞ্জ জিরো পয়েন্ট টি-হেড পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ তিস্তানদীর ডান তীরের বন্যা নিয়ন্ত্রণের এই প্রতিরক্ষা বাঁধটি ১৯৭২ সালে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সাম্প্রতিক অবৈধ দখলের কারণে বর্তমানে এটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে হুমকির মুখে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঁধের ওপর ও দুই পাশের ফাঁকা জমি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে শতাধিক কাঁচা-পাকা স্থাপনা। কোথাও খড়ের গাদা, কোথাও গরুর মলের ভাগাড়—এসব কারণে বাঁধের মাটি দুর্বল হয়ে পড়ছে। ইঁদুর ও পোকামাকড়ের বাসা তৈরির ফলে বাঁধের ভেতরে অসংখ্য গর্ত সৃষ্টি সহ অসংখ্য স্থানে বাঁধের মাটি সরে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এর টেকসই ও স্থায়িত্ব মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ অবস্থায় বর্ষাকালে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল। এতে তিস্তার পানি মূল ভূখণ্ডে ঢুকে উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে প্রলয়ংকারী বন্যার সৃষ্টি হতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে তিস্তা গাইডবাঁধ পরিদর্শন করেন উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধি দল। পরিদর্শনে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান ও ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মীর হাসান আল বান্না, পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সোহেল রানা, শাখা কর্মকর্তা মো. মাইদুল ইসলাম, কালীগঞ্জ বিওপির সুবেদার আইয়ুব আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
পরিদর্শনকালে ইউএনও মো. ইমরানুজ্জামান অবৈধ দখলদারদের সঙ্গে মতবিনিময় করে দ্রুত স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থে বাঁধ রক্ষা করা জরুরি। অবৈধ স্থাপনা সরাতে তিন দিনব্যাপী মাইকিং করা হবে এবং জমির সীমানা নির্ধারণ করে লাল পতাকা স্থাপন করা হবে।
তিনি আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থাপনা অপসারণ না হলে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন,বাঁধটি মেরামতে আনুমানিক এক কোটি টাকা ব্যয় হবে। ইতিমধ্যে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড ১২ শত ৫০ মিটার বাঁধ সংস্কারের জন্য ৮৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। তবে অবৈধ দখলমুক্ত না করলে টেকসই সংস্কারে পুনরায় মেরামত করা সম্ভব নয়।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও বাঁধ সংস্কারে বিলম্ব হলে আসন্ন বর্ষায় ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে তিস্তা অববাহিকার লাখো মানুষের হাজার হাজার বসত ভিটা, বাঁধের সন্নিকটের সীমান্ত রক্ষার বিজিবির বার্নির ঘাট, থানার হাট ও কালিগঞ্জ বিওপি ক্যাম্প, কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে সদ্য নবনির্মিত ঝাড়সিংশ্বর বিওপি ক্যাম্প সহ ৪ টি বিজিবি ক্যাম্প ও অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় উপাসনালয়সহ দেশের উত্তরাঞ্চল।
আজকালের খবর/বিএস