গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেছেন, কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহে রেল-লাইন স্থাপনের পরিকল্পনার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, বাস্তবায়ন শিগগিরই শুরু হবে। এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কৃষি বিপ্লব ঘটাতে চাইলে বিদ্যুতের চাহিদা, দাম, তেল আমদানির বিকল্পে প্রত্যেক জেলায় পতিত জমিতে সৌরবিদ্যুভিত্তিক প্রজেক্ট চালু করবো। আগামী ছয় মাসের মধ্যে তা ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে এটি দৃশ্যমান দেখতে পাবে।
বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে বৃহত্তর কুষ্টিয়া অফিসার্স কল্যাণ ফোরামের আয়োজন “কেমন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল চাই” শীর্ষক উন্নয়ন সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, সবাই স্বপ্নের পাহাড় নিয়ে এসেছেন। সেই স্বপ্ন, চিন্তা ও শ্রম প্রথমে শৈলকূপা ও পরে এ অঞ্চলের জন্য। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু তৈরিতে কর্মসংস্থান, অর্থনীতি, শিল্পায়নে প্রভাব পড়বে কি-না তা ভাবছি।
আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রায় ১১ লক্ষ কৃষকের (১০,০০০ পর্যন্ত যাদের ঋণ ছিল) দেড় হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করেছি প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়ে। আমরা ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রজেক্ট চালু করে প্রথম দিনেই ৩৮ হাজার ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করেছি।
তিনি বলেন, খুলনা থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক জেলায় অব্যবহৃত জমি কৃষিক্ষেত্র ও সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে বিদ্যুতের ঘাটতি দূর হয় এবং কৃষি বিপ্লব সম্ভব হয়। বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে বিদ্যুৎমন্ত্রীর নেতৃত্বে বিরোধী দলীয় নেতৃবৃন্দদের নিয়ে ১০সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও সবার লক্ষ্য এ অঞ্চলের মানুষের উন্নয়ন, এ কথা তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, দোষারোপের রাজনীতি থেকে বের হতে চাই। রাজনৈতিক বিরোধ এটা আদর্শিকভাবে থাকবেই। এজন্য হানাহানি, রক্তপাত এটা থাকবেই। কিন্তু আমাদের চিন্তার ঐক্য, আমাদের ভাবনা, সবার ভাবনা কিন্তু এই অঞ্চলের মানুষের উন্নয়ন নিয়ে। এখানেই আমাদের চিন্তার ঐক্য আছে। আমরা এ অঞ্চলের ন্যায্য হিস্যা চাই। অবহেলিত জনপদের ভালো ও সুখের জন্য যা করণীয় তা আমরা করে যাবো।
উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে বৃহত্তর কুষ্টিয়া অফিসার্স ফোরামের সভাপতি ড. খ ম কবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগের সংসদ সদস্যবৃন্দ-সহ রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভাবনা, অবকাঠামোগত অগ্রগতি, শিক্ষা বিস্তার, শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। উপস্থিত বক্তারা এ অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আজকালের খবর/ এমকে