গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় সাম্প্রতিক গুজব, অপপ্রচার ও সম্ভাব্য সহিংসতার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে হেযবুত তওহীদের সংবাদ সম্মেলন।
রবিবার ( ১২ এপ্রিল) বিকেলে গাজীপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে গাজীপুর জেলা হেযবুত তওহীদ এ সংবাদ সম্মেলন করেন। এসময় সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি অভিযোগ তুলে ধরে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মুখলেছুর রহমান সুমন। তিনি জানান, কাপাসিয়ার খোদাদিয়া গ্রামে সংগঠনটির কয়েকটি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে, তবে সম্প্রতি কিছু ধর্মীয় বক্তা ওয়াজ মাহফিলের আড়ালে সংগঠনটির বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। তার অভিযোগ, বেনামি হ্যান্ডবিলের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে উত্তেজিত করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে গাজীপুর জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে, কিন্তু অভিযুক্ত পক্ষ আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ১৩ এপ্রিল কাপাসিয়ার তাজউদ্দিন চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে, যা কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগের আশঙ্কা রয়েছে। অতীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুরূপ ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সংগঠনের সদস্যরা হামলার শিকার হয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দাবি করেন, হেযবুত তওহীদ একটি অরাজনৈতিক ও আইনমান্যকারী সংগঠন, যা দীর্ঘদিন ধরে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা প্রচার করে আসছে।
গাজীপুর জেলা সভাপতি আবু রায়হান প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, উগ্রতা ও গুজব প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে। সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনটি দাবি জানানো হয়-সমাবেশস্থলে পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন, পরিস্থিতি অনুযায়ী ১৪৪ ধারা জারি এবং উসকানিদাতা ও অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার দায় সংশ্লিষ্ট উসকানিদাতা ও সমাবেশ আহ্বানকারীদের নিতে হবে। শেষে তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান এবং সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন।
আজকালের খবর/বিএস