কুমিল্লার দেবীদ্বারে ভুয়া ওয়ারেন্টে সাংবাদিক সোহরাব হোসেনকে আটক করে থানা পুলিশ, আটকের ১৮ ঘণ্টা পর আদালত থেকে ছাড়া পান ওই ভুক্তভোগী সাংবাদিক। সোহরাব হোসেন দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের দেবীদ্বার উপজেলা প্রতিনিধি ও দেবীদ্বার রিপোর্টার্স ইউনিটির নির্বাহী সদস্য।
জানাা যায়, গত সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকাল ৫ ঘটিকার সময় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর দেবীদ্বার উপজেলা কার্যালয়ের সামনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান তত্বাবদায়ক জাহাঙ্গীর আলম ও তাদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলছিলেন সাংবাদিক সোহরাব হোসেন। ওই সময় দেবীদ্বার থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক ভবতোষ কান্তি দে এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ গিয়ে কুমিল্লার সিআর মামলা নাম্বার-৫৭০/২০২৫ এর একটি ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় আটক করে থানায় নিয়ে যায় সাংবাদিক সোহরাব হোসেনকে। থানায় প্রায় ১৮ ঘণ্টা আটকে রাখার পর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় কুমিল্লায় আদালতে প্রেরণ করলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সায়মা শরীফ নিশাত সাংবাদিক সোহরাব হোসেনকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
সাংবাদিক সোহরাব হোসেন বলেন, দেবীদ্বার উপজেলার উটখারা মাজারের জমি অবৈধভাবে দকলকারীরা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করে যাচ্ছে। তারপরও আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ায় নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু একটি মামলায় জামিন থাকার পরও সোমবার বিকালে ওই মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখিয়ে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
জামিনের বিষয়টি পুলিশকে জানালেও তারা আমার কোন কথা না শুনে আমাকে থানায় প্রায় ১৮ ঘণ্টা আটকে রেখে সকাল সাড়ে ১০টায় আদালতে প্রেরণ করেন। আদালতে যাওয়ার পর ম্যাজিস্ট্রেট আমার কাগজপত্র দেখে আমার নামে কোন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা না থাকায় আমাকে ছেড়ে দেন। ভুয়া ওয়ারেন্টে চক্রের কারনে আমার অনেক সন্মানহানী হয়েছে, এ ঘটনায় আমি বিচার চেয়ে আদালতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।
দেবীদ্বার থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক ভবতোষ কান্তি দে বলেন, আদালত থেকে ওয়ারেন্ট থাকায় আমরা সোহরাব হোসেনকে আটক করে আদালতে পাঠাই। কিন্ত আদালতের ওয়ারেন্টের বিষয়টি যাচাই করার আমাদের সুযোগ নেই।
এ ব্যাপারে কুমিল্লার বিজ্ঞ সিনিয়ার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪নং আমলী আদালতের পেশকার মো. জসিম উদ্দিন বলেন, সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাটি ভুলবশত থানায় চলে গেছে। তাকে আদালতে নিয়ে আসলে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আজকালের খবর/বিএস